শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ শুক্রবার | ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রূপগঞ্জে ফিটনেসবিহীন প্রাইভেটকারের দখলে এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ | ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ

রূপগঞ্জে ফিটনেসবিহীন প্রাইভেটকারের  দখলে এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক

রূপগঞ্জে লক্কর ঝক্কর প্রাইভেটকারের দখলে গাজীপুর-চট্টগ্রাম এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক। ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ির নেই হেড লাইট, লুকিং গ্লাস, এন্ট্রিকাটার তবুও রাজপথে তারা রাজা। চলার যোগ্য নয় তারপরেও চলছে এসব লক্কর ঝক্কর প্রাইভেটকার। তাদের কাছে কোনো গাড়িরই পাত্তা নেই। কারণ ব্রেকে পা দিতেই গাড়ি চলে যায় অন্যদিকে, গাড়ী নয় যেন মরণ ফাঁদ।

একটি সূত্র জানায়, এসব লক্কর-ঝক্কর প্রাইভেটকারগুলো চাঁদার বিনিময়ে দিনে পর দিন এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে বেপরোয়াগতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রতিদিন এসব প্রাইভেটকার থেকে শ্রমিকলীগের নামে তোলা হচ্ছে চাঁদা। চাঁদা তোলার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন মাসুম ও আওলাদ। প্রতিটি প্রাইভেটকার থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা চঁাদা তোলা হয়। এছাড়া প্রতি মাসে গুনতে হয় পুলিশ মান্তি ১ হাজার টাকা।

কারো চাঁদা এবং মান্তির টাকা দিতে দেরি হলেই তার গাড়ীটি চলে যায় পুলিশের রেকারের হাতে। গাড়ী চলাচল নয় যেন পুলিশের টাকার গাছ। এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক দিয়ে গাউছিয়া টু কুড়িল বিশ্বরোড, গাজীপুর বিশ্বরোড ও মিরের বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০০টি প্রাইভেটকার চলাচল করে। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা এসব লক্কর ঝক্কর প্রাইভেটকারে যাতায়াত করছে।
ব্যস্ততম এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে এসব লক্কর ঝক্কর গাড়ির কারণে প্রায় সময় ঘটছে দূর্ঘটনা। এসব গাড়ির কারণে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। ভোগান্তিতে পড়ছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।

সরেজমিনে প্রাইভেটকার স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, গোলাকান্দাইল চৌরাস্তায় ভূলতা ফ্লাইওভারের নিচে সারি সারি রাখা হয়েছে লক্কর ঝক্কর প্রাইভেটকার। এসব প্রাইভেটকারের কোনটির জানালার কাঁচ ভাঙ্গা, কোনটির হেডলাইট, সিগনাল লাইট নেই। আবার কোনোটি নড়বড়, যেন খুলে পড়ছে গাড়ির বডির বিভিন্ন অংশ। কোনোটির রং চটেছে বহু আগেই। এদিকে এই লক্কর ঝক্কর প্রাইভেটকারে হাঁকডাঁকে যাত্রী উঠাচ্ছেন চালকরা।

মিরেরবাজার থেকে গাউছিয়া আসা প্রাইভেটকারের এক যাত্রীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই প্রাইভেটকার দিয়ে চলাচল করা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এটি একদিকে ব্রেক করলে অন্য দিকে চলে যায়। পুরো রাস্তা দোয়া পড়তে পড়তে এসেছি। যাত্রীরা যেন তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এই সড়কে চাঁদাবাজদের ভয়ে অন্যকোনো পরিবহন চলাচল করতে পারছে না।

কুড়িল বিশ্বরোড থেকে আসা মনির হোসেন বলেন, আমি প্রতিদিন গাউছিয়া থেকে কুড়িলবিশ্বরোড যাতায়াত করি। বাড়ী ফিরতে হয় রাতে। ঠিকমতো বিআরটিসি বাসও পাইনা। মাঝে মধ্যে রাত বেশি হলে প্রাইভেটকার দিয়ে যেতে হয়। কারণ বাড়ী আমার আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাড়ারীয়ায় এলাকায়।

ভূলতা হাইওয়ে পুলিশের টিআই ফারুক জানায়, এসব গাড়ীগুলো আমাদের সামনে পড়লে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করি।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন