মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ মঙ্গলবার | ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সোনারগাঁওয়ে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

সোনারগাঁওয়ে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ায় সাধারণ মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটছে শিশু, নারী ও বয়স্কদের। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে ফ্যান চলে না, ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে, বিশুদ্ধ পানির মোটর চালানো যাচ্ছে না। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পেরে অনেকেই প্রয়োজনীয় যোগাযোগ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ায় অনলাইনভিত্তিক কাজ, ফ্রিল্যান্সিং ও শিক্ষার্থীদের অনলাইন প্রস্তুতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে এ অঞ্চলের শিল্প ও ব্যবসা খাতে। সোনারগাঁয়ের বিদ্যুৎনির্ভর ছোট-বড় শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কাঁচপুর ইউনিয়নের বাইশটেকি এলাকার চাকরিজীবী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “কাঁচপুরের মতো এত বড় শিল্প এলাকায় মানুষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘরে থাকাই দায়। প্রচণ্ড গরমে রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাতে হয়। ছোট বাচ্চা আর বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে আমরা একপ্রকার নরকযন্ত্রণা ভোগ করছি।”

পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, “এক বিঘা জমিতে শখ করে সবজি চাষ করেছিলাম। কিন্তু সময়মতো সেচ দিতে না পারায় চোখের সামনে ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে চার ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাই না।”

বারদী ইউনিয়নের শান্তির বাজার এলাকার অটোরিকশাচালক কাশেম মিয়া বলেন, “দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছি না। গ্যারেজে বসে থাকতে থাকতে আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”

মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দমদমা এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী রাব্বি জানায়, “পরীক্ষা সামনে, কিন্তু রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। গরমে টেবিলে বসে থাকাও কষ্টকর।”

এদিকে, বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয় ও দুধজাত পণ্য বিক্রেতারা পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। বিউটি পার্লার, সেলুন, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার দোকান, ফটোকপি সেন্টারসহ বিদ্যুৎনির্ভর অসংখ্য ছোট ব্যবসা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকছে। রোগীরা প্রয়োজনীয় নেবুলাইজার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারেও সমস্যায় পড়ছেন।

এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। তাদের অভিযোগ, এমন দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং চলতে থাকলে জনজীবনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (সোনারগাঁ জোনাল অফিস)-এর উপমহাব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে বলে আশা করছি।”




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন