মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ মঙ্গলবার | ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল যোগদানের পর থেকেই ৩৪ ধারা বাণিজ্য তুঙ্গে

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল যোগদানের পর থেকেই ৩৪ ধারা বাণিজ্য তুঙ্গে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত পুলিশের সোর্সরাই থানার হর্তাকর্তা। ওসি থেকে শুরু করে এসআই ও এএসআইরা চলেন সোর্সদের কথামতো। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে থানা পুলিশ। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ওসি হিসেবে মোহাম্মদ এমদাদুল হক যোগদান করার পর থেকেই বেড়ে গেছে ‘৩৪ ধারা বাণিজ্য’। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িতরা কাজ করছে পুলিশের সোর্স হিসেবে। এসব সোর্সের অনেকেই নামসর্বস্ব পত্রিকা বা অননুমোদিত অনলাইন পোর্টালের কার্ড কিনে সাংবাদিক পরিচয়ে পুলিশের সাথে সখ্য গড়ে তুলে নিশ্চিন্তে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থানায় অবস্থান করে এসব সোর্স পুলিশের সাথে মিলে তদবির বাণিজ্য করছে। একাধিক সোর্সের স্বজনরা আবার এলাকার মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত। ফলে এসব মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়ে সোর্সরা। এতে অনেক পুলিশ অফিসার চরম বিরক্তি প্রকাশ করছেন। সোর্সদের কথা না শুনলে তারা পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও বদলি করার হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকে। ফলে বাধ্য হয়েই পুলিশ অফিসাররা সাংবাদিক নামধারী সোর্সদের কথায় ওঠাবস করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একাধিক এসআই ক্ষোভের সাথে বলেন, “সব সময় থানার সামনে অবস্থান করা কিছু নামসর্বস্ব গণমাধ্যমকর্মী তাদের কথা না শুনলে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বানিয়ে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেয়। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করলে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তারা জোরালো তদবির করে। আবার কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার না করার জন্য অনুরোধ করে থাকে।” খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, যেসব মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার না করার অনুরোধ করা হয়, তারা এসব সোর্স ও সাংবাদিকদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।

অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন আগে আদমজী বিহারী কলোনির ব্যবসায়ী রমজানকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ৩ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে তাকে মাত্র ৫০ পিস ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় আদালতে চালান করা হয়। একইভাবে বাগমারা এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সুমী, সুমনা ও বাউল শিল্পী ঝরনাকে মাদকসহ ধরে থানায় নিয়ে যান থানার ওসি এমদাদুল হক নিজে। কিন্তু রাতে বিশেষ পেশার একজন তদবিরে ৭০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে সুমনা ও বাউল শিল্পী ঝরনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সুমীকে ১৫ পিস ইয়াবার মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় কোনো সাধারণ মানুষ গ্রেপ্তার হলে তারা বাণিজ্য শুরু করে। তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে শেষে ডিএমপি/পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে। গত কয়েক মাস ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশের এই ৩৪ ধারা বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক যোগদান করার পর থেকেই ৩৪ ধারায় চালান করার এই ব্যবসা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। আবার যাদের ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হচ্ছে, তাদের অপরাধী হিসেবে দেখানোর জন্য মাদক ব্যবসায়ী ও অন্যান্য অপরাধীদের সাথে গ্রুপ ছবি তুলে গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে পাঠাচ্ছে পুলিশ। ফলে মূল অপরাধী না হয়েও ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো নিরপরাধ লোকগুলোর ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এতে অপরাধী না হয়েও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “সোর্সদের কথায় পুলিশ চলে—এমন কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে কোনো সোর্স যদি অপরাধের সাথে জড়িত থাকে, প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর ৩৪ ধারাও একটি অপরাধ, তাই তাদের ছবি মিডিয়াতে দেওয়া হয়।”




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন