বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ বুধবার | ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাংবাদিক নাকি রাজনৈতিক নেতা? সিদ্ধিরগঞ্জে মো. সোহেল রহমানকে ঘিরে নানা অভিযোগ, প্রশ্ন পরিচয় ও প্রভাব নিয়ে

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪:২৬ অপরাহ্ণ

সাংবাদিক নাকি রাজনৈতিক নেতা? সিদ্ধিরগঞ্জে মো. সোহেল রহমানকে ঘিরে নানা অভিযোগ, প্রশ্ন পরিচয় ও প্রভাব নিয়ে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:
একদিকে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরিচয়, অন্যদিকে সাংবাদিকতার পরিচয়—এই দুই পরিচয়কে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মো. সোহেল রহমানকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা ও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংবাদিকতার পরিচয়কে একসঙ্গে ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, মো. সোহেল রহমান নিজেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষক দলের সদস্য সচিব হিসেবে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন মহলে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবেও উপস্থাপন করেন। তাঁর এই দ্বৈত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলে সেটি ছোট বা ব্যক্তিগত বিষয় হলেও তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়। কখনো রাজনৈতিক পরিচয়, আবার কখনো সাংবাদিকতার পরিচয় সামনে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, কোনো ঘটনা বা বিরোধের তথ্য পাওয়ার পর সেটিকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা সংবাদ প্রকাশের কথা বলে চাপ সৃষ্টি করার ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ অর্থ দাবি বা আর্থিক সুবিধা চাওয়ার অভিযোগও করেছেন।

সোহেল রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। একটি রাজনৈতিক সংগঠনের পদে থাকা ব্যক্তি একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করলে তাঁর সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নও তুলছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের কেউ কেউ।

সিদ্ধিরগঞ্জের কয়েকজন পেশাদার সাংবাদিকের অভিযোগ, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তাতে পুরো সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাদের মতে, সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হলো তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরা। কোনো ব্যক্তি যদি সাংবাদিকতার পরিচয়কে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার কিংবা কাউকে চাপ দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন—তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ, সাংবাদিক সংগঠন এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আনা উচিত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোহেল রহমানের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও কার্যকর তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা না থাকায় অভিযোগগুলো আরও জোরালো হচ্ছে। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন কি না, কারও কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ দাবি করা হয়েছে কি না এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সচেতন মহলের মতে, অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ভিত্তিহীন অভিযোগের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার। এতে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মর্যাদাও অক্ষুণ্ন থাকবে।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন