বিশেষ সংবাদদাতা:
আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পুনঃ ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০০ টাকা দ্বিতীয় বর্ষে উন্নতিকরণ ফি এবং অকৃতকার্য প্রতিটি বিষয়ের জন্য ৫০০টাকা করে জরিমানা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে সম্প্রতি এ কলেজের বর্ষ পরিবর্তন পরীক্ষায় ২৮৬জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।তাদের মধ্যে ৫৩ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে এবং ২৩৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হলে ৫০০টাকা জরিমান দিতে হবে এবং সকল ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে ১০০০টাকা করে দ্বিতীয় বর্ষে উন্নতিকরণ ফি জমা দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষরে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে পুনঃভর্তি ফি-কে উন্নয়ন ফি নামে প্রচার করছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা কলেজের এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়েছে।
*পরিপত্রে কী বলা হয়েছে*
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৬- এর ৫(ঙ) ধারায় বলা হয়েছে কোনো প্রতিষ্ঠানের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি গ্রহণ করা যাবে না। এ নীতিমালায় যাবতীয় আয়- ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধি- বিধান যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিচালনা কমিটি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য জবাবদিহির আওতায় থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
*অভিভাবকদের প্রশ্ন*
একজন শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে প্রতি বিষয়ের জন্য ৫০০টাকা জরিমানা ও পুনঃভর্তি ফি আদায়ের অর্থ কোন খাতে যাচ্ছে এবং এর অনুমোদনই বা কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে,ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বৈরাচারী পন্থায় কলেজ পরিচালনা করছেন। এ অর্থ আদায়ের অনুমোদন কোথায় থেকে নেওয়া হয়েছে এবং আদায়কৃত অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
এ কলেজে আগেও অর্থ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে এবং এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম বলেন আমরা টাকা নেই তবে ব্যাংকের মাধ্যমে কলেজের উন্নয়নের জন্য।
কলেজের সভাপতি ফকির সাকিব সাদমানের সাথে আলাপ কালে তিনি দুই এক কথাবলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে মোবাইলের লাইন কেটে দেয়।এ ব্যাপারে থানা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুর রহমানকে মুটো ফোনে বার বার কল দিলেও ফোনটি তিনি রিসিপ করেননি।