আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ১২ নং কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে হাফেজ মাওলানা গোলাম মোস্তফা সিরাজীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আড়াইহাজার উপজেলা শাখার মাসিক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন হাফেজ মাওলানা গোলাম মোস্তফা সিরাজী।
দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পর কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী তৎপরতা বেড়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
হাফেজ মাওলানা গোলাম মোস্তফা সিরাজী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। দলটির স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, তৃণমূল নেতাকর্মী ও স্থানীয় পর্যায়ের সমর্থকদের আগ্রহ এবং সাংগঠনিক বিবেচনায় তাকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি
ইসলামী আদর্শের আলোকে ন্যায়, ইনসাফ ও জনকল্যাণভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
প্রচারণার পোস্টার ও দলীয় প্রচারসামগ্রীতে ‘আল্লাহর উপর ভরসা, জনগণের ভালোবাসা’—এই বার্তাকে সামনে রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের মানুষের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন প্রার্থী। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে গোলাম মোস্তফা সিরাজীর একটি পরিচিতি রয়েছে। তারা মনে করছেন, তার প্রার্থিতা কালাপাহাড়িয়ার নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় নেতাদের দাবি, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে তাদের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম রয়েছে এবং ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ও ধর্মসচেতন মানুষের একটি অংশের মধ্যে দলটির সমর্থন রয়েছে।
গোলাম মোস্তফা সিরাজীর প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় নেতাকর্মীরা সাংগঠনিকভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করলে আগামী দিনগুলোতে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের প্রার্থিতা ও রাজনৈতিক তৎপরতার চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট না হলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ঘোষণা নির্বাচনী আলোচনায় নতুন একটি বিষয় যুক্ত করেছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন কার পক্ষে কতটা—তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনী প্রচারণা, প্রার্থীদের কর্মসূচি, স্থানীয় ভোটারদের মূল্যায়ন এবং ভোটের ফলাফলের মাধ্যমে।