শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ শুক্রবার | ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রূপগঞ্জে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, উৎকট দুর্গন্ধেও উদাসীনতা

শনিবার, ০৪ মার্চ ২০২৩ | ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

রূপগঞ্জে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে ময়লার  ভাগাড়, উৎকট দুর্গন্ধেও উদাসীনতা

রূপগঞ্জে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে বাধাহীন ভাবে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। ফলে উৎকট দুর্গন্ধ সঙ্গী হচ্ছে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের। দিনের পর দিন ময়লার স্তুপ বড় হচ্ছে। তবে তা বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেই। উল্টো অভিযোগ আছে, উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর দেয়া বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে এখানে বর্য ফেলা হচ্ছে।

সরজমিনে দেখা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকায় গাজীপুর-চট্টগ্রাম এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের উপর ফেলা হচ্ছে বাসা-বাড়ি, কল-কারখানা আর বিভিন্ন হাট বাজারের বজর্য। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল ভাগাড়। দিন দিন এর পরিধি বাড়ছে। ময়লার দুর্গন্ধে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী এমন কি এ রোডে চলাচলরত পথচারীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় কাঁচামালের আড়ৎসহ গাউছিয়া এলাকার কলকারখানা ও আবাসিক এর সকল ময়লা আবর্জনা সড়কের লেনের উপর প্রতিনিয়ত ময়লা ফেলা হচ্ছে। পরিবেশের তোয়াক্কা না করে খেয়াল খুশি মতো সড়ক ঘেঁষেই ফেলা হচ্ছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, কর্কশিট, কার্টন, কাগজ, পলিথিন, বস্তা, ক্লিনিক্যাল বজর্য, মৃত পশু, বাসা-বাড়িসহ হোটেল রেস্তেঁারার উচ্ছিষ্ট খাবার। কখনো কখনো ফেলে যাওয়া বজর্য এসে পড়ে সড়কের ওপর। বৃষ্টি হলে সড়কগুলোতে ভাসতে থাকে নানা ধরনের আবর্জনা।

এই ময়লার দুর্গন্ধে রাস্তায় চলাচলকারী লোকজনকে নাকে রুমাল বা কাপড়ে চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের আলোচিত ভুলতা গাউছিয়া কাপড়ের মার্কেট। সারাদেশের হাজার হাজার ব্যবসায়ী প্রতি সোমবার ও মঙ্গলবার এ কাপড়ের হাটে আসেন। তারা সকলেই পড়ছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। এছাড়াও রয়েছে ডজনখানেক হাসপাতাল, স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা। এখানে রয়েছে রোগীসহ শত শত শিক্ষার্থী।

স্কুল পড়ুয়া দশম শ্রেনীর ছাত্র জাহিদ হাসান বলেন, এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন গোলাকান্দাইল স্কুলে যাই। ময়লার দুর্গন্ধ অনেক খারাপ লাগে। এখানে এসেই নাক চেপে রাস্তা পার হই। আরও দেখেছি সাংবাদিকেরা সমস্যা নিয়ে লেখেন কিন্তু স্থায়ীভাবে কোন সমাধান হয়নাই। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।
এ সময় কথা হয় সালমা নামে এক গার্মেন্ট কমর্ীর সঙ্গে। ময়লার স্তুপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরে ছিলেন তিনি।
তিনি জানান, সারাক্ষণই আসে উৎকট দুর্গন্ধ। হেঁটে গেলে দম বন্ধ হয়ে আসে। সড়কের পাশের হাঁটার জায়গায় ময়লা ফেলে দখল করে নিয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হয়।

গোলাকান্দাইল এলাকার বাসিন্দা নাঈম আহমেদ বলেন, শুনেছি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দেয়া বিধি-নিষেধ সত্ত্বেও এখানে বজর্য ফেলা হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে দুর্গন্ধের কারণে সকলের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। লোকালয় থেকে দূরে কোথাও এই ময়লা পরিবেশসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ করা উচিত। সম্ভব হলে এগুলোকে রিসাইকেল করে জৈব শক্তিতে রূপান্তর করা যেতে পারে।

এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশেই রূপগঞ্জ থানার ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ি। যোগাযোগ করা হলে ফাঁড়ির ইনর্চাজ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি ইউএনও এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান দেখভাল করবেন। এবিষয়ে পুলিশের কোনো ভুমিকা নেই।

এবিষয়ে জানতে চাইলে গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ভূইয়া বলেন, ময়লার বিষয়ে একাধিকবার আমি উপজেলা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে উপস্থাপন করেছি। এরপর আমাকে ময়লা অপসারণের জন্য বলা হলে আমি কাভার্ড ও ছোট ছোট ভ্যানগাড়ি দিয়ে ময়লা সরিয়েছি। এটার জন্য আলাদা কোনো ফান্ড নেই। বর্তমানে অর্থ সংকট বিধায় এটি সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এক সময় এখানে বিভিন্ন জায়গায় ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতো সেগুলোকে পরিচ্ছন্ন করেছি। বর্তমানে আর তেমন বর্জ্য দেখা যায়না। এশিয়ান হাইওয়ে পাশের বর্জ্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হলে এখানকার ফুটপাত শতভাগ উচ্ছেদ করতে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল হক জানান, এ বর্জ্য অপসারণের বিষয়ে স্থানীয় দুই ইউনিয়ণ পরিষদের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন দোকান মালিক সমিতি, কারখানা ও মার্কেট ও কাঁচাবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ফান্ড তৈরীরও নির্দেশনা দেয়া আছে।

তিনি আরও বলেন, ময়লা অপসারণের কার্যক্রম চলমান ছিলো। তবে কি কারণে বন্ধ রয়েছে তা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন