তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ বাহিনীরা গ্রেফতার না করলেও এসব মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন র্যাব-২, র্যাব-৩ এর অভিযানিক দল।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগের ব্যানারকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের গুটি কয়েক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা করে সুচতুর টাইগার ফারুক ওরফে চিকনা ফারুক ও ফেন্সি বাবু মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এই সিন্ডিকেট সিদ্ধিরগঞ্জসহ এর আশপাশের এলাকায় পাইকারী ও খুচরা মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিপুল পরিমান অর্থ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। যা-র্যাবের হাতে বিপুল পরিমান মাদক সহ গ্রেফতার এবং বিগত দিনে বড় বড় মাদকের চালান নিয়ে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে একই সিন্ডিকেটের মুখোশ জনসম্মুখে উন্মোচিত হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত টাইগার ফারুক যুবলীগের নাম ব্যবহার করে কথিত একটি যুবলীগের কার্যালয়ও বানিয়ে নিয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি টিসি রোড এলাকায়। ওই কার্যালয়ে মাদক কেনা-বেচা ও সেবনের মহোৎসব এবং শলাপরামর্শ হয়। এরআগে টাইগার ফারুকের ছোটভাই জসিম ছিনতাই করতে গিয়ে দেশীয় ধাড়ালো অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ফারুকের আরেক ভাই জুয়েল বিএনপির ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এ সিন্ডিকেটের আরেক সক্রিয় সদস্য আরাফাত রহমান বাবু। সে এই মাদক ব্যবসায়ীদের অন্যতম হোতা।
এছাড়া ফারুক নিজেও হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। মিজমিজি পাগলাবাড়ী এলাকায় রীতিমত একটি অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছে চিকনা ফারুক। আর গোপন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুবলীগের নাম দিয়ে কথিত কার্যালয় বানিয়ে অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে বহাল তবিয়তে। ওই কার্যালয়ে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের ছবি টানিয়ে রেখেছে। এই ছবি বিক্রি করে চতুর ও টাউট ফারুক তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানায়। এছাড়া এই সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটটি তাদের অপরাধ কর্মকান্ড নির্বিচারে চালিয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি বিশেষ পেশার মহলকে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা প্রদান করে নিজেদের অনুগত করে রেখেছে। যখনই এই সিন্ডিকেটের কোন মাদক ব্যবসায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেই তারা তদবির চালিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করতো বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যা তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল।সিদ্ধিরগঞ্জে আবারো তদের বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী টাইগার ফারুক ওরফে চিকনা ফারুকের ৫ সহযোগীগে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩’র একটি আভিযানিক দল। এসময় তাদের কাছ থেকে ১৮ কেজি গাঁজা ও ৯৬ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার এবং মাদক সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।
লাল গোলাকার চিহৃতরা বর্তমানে র্যাব ও পুলিশে হাতে গ্রেফতার হয়ে বিভিন্ন জেলার জেল হাজতে রয়েছে।