স্টাফ রিপোর্টার :
আড়াইহাজারে স্বামীর পরকীয়াতে বাধা হওয়ায় গৃহবধূ আমেনা আক্তার মায়া (৪২) এর মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে পোস্ট মোর্টেম রির্পোট আসার আগেই এটিকে আত্মহত্যা বলে লিখিত অনাপত্তি দিয়ে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত আমেনা আক্তার মায়ার বোন নাছিমার দাবি যাতে করে আমরা কোনো আইনী ব্যবস্থা না নিতে পারি তাই নিহত মায়ার ছেলেকে দিয়ে থানা পুলিশের কাছে একটি অনাপত্তি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট আসার আগেই সেটিকে তারা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই সকালে উপজেলার ব্রাহ্মণদী ইউনিয়নের বড় বিনাইরচর এলাকায় আমেনা আক্তার মায়া (৪২) মারা যায়। ঘটনার পর থেকে নিহত গৃহবধূর স্বামী আসলাম হোসেন ও পরকীয় প্রেমিকা শাহিনা পলাতক রয়েছে।
নাছিমার দাবি, মায়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করেনি। মায়ার লাশ তারা নিজেরাই ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়েছে এবং পোস্ট মর্টেম ছাড়াই তড়িগড়ি করে দাফন করে ফেলতে চেয়েছিলো। আমরা ঢাকা থেকে ৯৯৯ এ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলো।
আর আমার বোনের স্বামীর যে শাহিনা আক্তারের সাথে পরকীয়া ছিল তার যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা ধারণা করছি মায়াকে তার স্বামী পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় হত্যা করেছে অথবা আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে।
এদিকে পুলিশের কাছে অনাপত্তি দেওয়ার বিষয়টি জানতে চেয়ে পলাতক স্বামী ও নিহত গৃহবধূর মায়ার ছেলে মিরাজ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে মিরাজের পরিবর্তে কথা বলেন তার জামাতা আজিম।
মায়া আক্তারের লাশ নিজেরাই নামানোর বিষয়টি স্বীকার করে অনাপত্তি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, লাশ আমরা নিজেরাই নামিয়েছিলাম ভেবেছিলাম জীবিত আছে তাই তাড়াতাড়ি করে আমরা লাশ নামিয়ে ছিলাম। আর অনাপত্তি দিতে আমাদের কেউ চাপ দেয়নি। মিরাজের মা মারা গেছে বাবা পলাতক এই অবস্থায় আমরা অনাপত্তি দিয়েছি।
পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট আসার আগে আত্মহত্যা বলে অনাপত্তি দেওয়া সঠিক কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আসলে বিষয়টি ঠিক হয়নি কিন্তু আমরা পরিস্থিতি বিবেচনায় দিয়েছি।
তার শ্বশুর আসলাম হোসেন এবং শাহিনার পরকীয়া ছিলো কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই।
তবে আসলাম হোসেন ও শাহিনার ঘনিষ্ট মুহূর্তের একটি ভিডিও এর স্ক্রিন শট তাকে দেখানো হলে তিনি নিশ্চিত করেন ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি দুজন তার শ্বশুর আসলাম হোসেন এবং শাহিনা বেগম। তিনি বলেন, আমরা শুনেছি এই মহিলাকে নাকি দুই মাস আগে উনি বিয়ে করেছিলেন কিন্তু আমাদের কাছে কোন কাবিননামা নাই।