ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার থানা-উপজেলা প্রধান সড়কে সারাবছরই লেগে থাকে জলাবদ্ধতা, পাশেই মারিখালি নদী থাকা সত্বেও উপযুক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে রাস্তার পানি নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করা হয় নি স্বাধীনতা উত্তর গতো ৫২ বছরেও। তাই পানি জমে জমে প্রতিবছরই রাস্তা ভেঙে সরকারের কোটি টাকার অপচয়ের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও নোংরা কাঁদাময় পরিবেশে জনদূর্ভোগের কারন হয় দাড়িয়েছে সোনারগাঁ উপজেলার থানা রোড সড়কটি। রাস্তাটি সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থায় রয়েছে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা – হাবিবপুর অংশে।
সরজমিনে দেখা যায়, মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা হতে হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাবিবপুর গোরস্থান হয়ে বিজয় স্তম্ভ পার্কের শেষমাথা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার অর্ধেক ও কোন অংশে পুরো রাস্তাই জলাবদ্ধতার নিচে চলে গেছে, রাস্তায় পানি জমে থেকে একের পর এক অংশে রাস্তা ভাঙছে, গতো তিন সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে রাস্তার পানি সরার জায়গা না পেয়ে রাস্তাতেই জমে আছে গতো কয়েকসপ্তাহ ধরে। রাস্তার পাশের ফুটপাথ সব অবৈধভাবে ব্যবসায়ী দোকানদারদের দখলে চলে যাওয়ায় কাঁদাময় জলাবদ্ধতা নিয়েই চলাফেরা করতে হচ্ছে জনসাধারণকে। এদিকে পানির নিচের রাস্তা ভেঙে জায়গায় জায়গায় গর্ত হয়ে যাওয়ায় না দেখে গাড়ি আটো রিক্সা চলাচলের সময় যাত্রীসহো প্রায়শই উল্টে যাচ্ছে যানবাহন ঘটছে ছোটবড় দূর্ঘটনা৷ এই রাস্তা কেন্দ্রীকই বাড়ি নারায়ণগঞ্জ – ৩ সোনারগাঁ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার, সাংসদের বাড়ির সামনেই রাস্তার এমন নাজেহাল অবস্থা থাকার পড়েও কোন কার্যকরী দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে কিছুদিন পূর্বে সড়কের হাতকোপা ও দৈলেরবাগ অংশের রাস্তায় সিসি ঢালাই করে রাস্তার খাল-খন্দ কিছুটা লাঘব করা গেলেও তা নিতান্তই অপ্রতুল। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার হাবিবপুর অংশে অপরিকল্পিত সরু ড্রেনেজ থাকলেও ড্রেনের পানি নামার কোন পথ তৈরি নাই আর ড্রেন পরিষ্কারও করা হয় না তেমন। ফলে ড্রেনের পানি রাস্তার উপরেই উঠে জলাবদ্ধতা তৈরি করে সাথে ড্রেনের ময়লায় পানি ও পরিবেশ দূষনও তৈরি হচ্ছে। স্বাধীনতা উত্তর গতো ৫২ বছরেও থানা সড়কটিকে তেমন প্রশস্ত করা হয় নি, পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত ভাবে অটো রিক্সা রাস্তায় নামানোর সুযোগ করে দেয়ায় থানা রোডে ঢুকতে আর বের হতে বিশাল গাড়ির জটলা আর জ্যামজটের সৃষ্টি হয়। চৌরাস্তা অংশে গাড়ি রাখার স্ট্যান্ডের জায়গায় অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দই-মিষ্টির দোকান ও ভাসমান ফল ও ক্রোকারিজ দোকান গড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়ায় সব গাড়ি রাস্তার ধারেই জড়ো হয়ে দাড়ায় ফলে যানজট আরো বাড়ে, পাশাপাশি অপরিকল্পিত ভাবে ফ্রেশ আমান আল মোস্তফা গ্রুপ সহো বিভিন্ন কোম্পানির ২৫-৩০ টনের বিশাল বিশাল ট্রাক লরি এই সরু রাস্তা দিয়েই চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে যা আরো যানজটের সৃষ্টি করছে।
এই সড়ক দিয়েই উপজেলা ও থানা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা ওসি, এসি ল্যান্ড সহো সকল উর্ধ্বতন কর্মকতাবৃন্দেরও যাতায়ত, সবার চোখের সামনে রাস্তাটি এবং মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা অংশটির এমন দুরবস্থা জনমনে নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের স্বদিচ্ছা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
স্থানীয় কিছু পথাচারী এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তাটিতে পানি জমে যায়, রাস্তার আশেপাশের সকল বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ছাদের পানির লাইনও রাস্তায় দেয়া ফলে সবার ছাদের পানিও এসে রাস্তায় জমা হয়, পানি নিষ্কাশনের কোন লাইন নেই ফলে পানি জমে থাকে রাস্তায় আর এখন জলাবদ্ধতা ময়লা ও নোংরা পরিবেশে পাঁয়ে হেটে চলাচলেরও অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে রাস্তাটি। স্কুল পড়ুয়া ছোট ছোট বাচ্চাদেরও এই নোংরা জলবদ্ধতা দিয়ে স্কুলে যেতে হয়, ডেঙ্গুর মৌসুমে এমন জলাবদ্ধতা আর নোংরা পরিবেশ সোনারগাঁয়ে ডেঙ্গু বাড়াতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তারা। কয়েকজন অভিযোগও করেন মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার রাস্তা ঘেঁষেই স্থানীয় সাংসদ সহো বিভিন্ন নেতা ও প্রভাবশালীর মার্কেট ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে বিধায় উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে রাস্তা প্রশস্তের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না এসব মার্কেট ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাঙা পড়বে বিধায়। এই রাস্তায় চলাচলকারী অটোবাইক চালক আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, আজকা সকালেই গর্তে পইড়া রিক্সাটা উল্টাই গেলো আমার, ২০০ টাকা জরিমানা দিয়া রিক্সাটারে ঠিক কাইরা আনলাম, এখন ডর লাগে ভাঙ্গা রাস্তায় রিক্সা চালাইতে।
এ বিষয়ে মোগড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু এর সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সোনারগাঁ থানা রোডটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে, এর সংস্কার ও উন্নয়ন দেখভালের দায়িত্ব তাদের, তবুও মোগড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে চৌরাস্তা হাবিবপুর অংশের ড্রেনটি পরিষ্কার করা হয় মাঝে মাঝে, আমি নিজ খরচায়ও অনেক সময় কিছু সংস্কার করি। সড়কটি ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে উপযুক্ত উন্নয়ন, সড়কের প্রশস্ততা বৃদ্ধি ও গভীর প্রশস্ত ড্রেনেজ করে নদীতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে তিনি জানান।