শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ শুক্রবার | ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সোনারগাঁয়ে কথিত সোর্স, ডাকাত শাহ আলমের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারন মানুষ

বুধবার, ০৮ মার্চ ২০২৩ | ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

সোনারগাঁয়ে কথিত সোর্স, ডাকাত শাহ আলমের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারন মানুষ

সোনারগাঁও প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী শাহ আলমের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পেশাজীবি সাধারন মানুষ।

একাধিক সুত্রে জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম। এক সময়ে সোনারগাঁও উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি করে জীবন-যাপন করতো। পাশাপাশি মাদক সেবন করতো। এভাবেই কয়েকবার পুলিশের হাতে আটক হয় শাহ আলম।

সেই সুবাদে সোনারগাঁও থানার বিভিন্ন পুলিশের সাথে সু-সর্ম্পক গড়ে উঠে শাহ আলমের। এর পর থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি শাহ আলমের। শুরু হয় বিভিন্ন মাদক স্পটে পুলিশ নিয়ে অভিযান। আবার পথের মাঝেই বিভিন্ন ব্যক্তিকে আটক করে কোমড়ে গাজাঁ কিংবা ইয়াবা দিয়ে পুলিশ ডেকে তাদেরকে আটক করে হাতিয়ে নেয় টাকা-পয়সা।

সোনারগাঁও উপজেলার এক ভুক্তভোগী সোর্স শাহ আলমের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোর্স শাহ আলম কানে সব সময় ব্লুটুথ লাগিয়ে রাখে। সোর্স শাহ আলমের ভাব দেখলে মনে হয় সে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিচয় এবং র‌্যাব-১১’র সিও’র সাথে ভালো সর্ম্পক রয়েছে এমন ভয়-ভীতি দেখিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ সোর্স শাহ আলম। বিভিন্ন জুয়া ও মাদক স্পটে পুলিশ কিংবা র‌্যাব অভিযান চালাবেনা বলেও উক্ত স্থানগুলো থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সোর্স পরিচয়দানকারী এ শাহ আলম।

এর আগে গত কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, সোর্স শাহ আলম নাচতে নাচতে কিছুক্ষণ পরপর এক যুবককে প্লাস্টিকের সবুজ রঙের পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে লাঠিপেটা করছে। পেটানোর সময় যুবকটি হাউমাউ করে চিৎকার করলেও সে একের পর এক আঘাত করে যাচ্ছে। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহল থেকে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়।

কিন্তু সোনারগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, সোর্স শাহ আলমের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই ডাকাতের দ্বন্ধে এ ভিডিও ভাইরাল করা হয়। নির্যাতিত যুবক ডাকাত সাদ্দামের সহযোগী। লেনদেনের দ্বন্দ্বে ওই যুবককে পেটানো হয়।

মিউজিকের তালে তালে যুবককে পিটানোর বিষয়ে তৎকালীন সোনারগাঁ থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, শাহ আলমের সাথে পুলিশের কোন সর্ম্পক নেই। পুলিশের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসা করতো। সে মূলত একজন ডাকাত। সেজন্য তাকে ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোনারগাঁও থানা পুলিশের কথিত এ সোর্স শাহ আলমের অত্যাচার থেকে বাচঁতে পুলিশ সুপার ও র‌্যাবের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন