ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ
২১শে আগস্ট ২০০৪ সালের ঢাকায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার এক সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলো ২৪ জন। ঘটনাটি একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা হিসেবে পরিচিত।
ওই হামলায় আশেপাশের এলাকাই শুধু কেঁপে ওঠেনি বরং এটি নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে।
তৎকালীন বিএনপি-জামাত সরকারকে হামলার জন্যে প্ল্যান-বি তে যেতে হয়েছিল। তবে সেই সময় বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অল্পের জন্য মৃত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। যদিও আজও তিনি সেই হামলার পরিণতি বহন করছেন নিজের শরীরে।
ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিএনপি-জামাত সরকার কোনো প্রচেষ্টা বাদ রাখেনি। ক্ষতিগ্রস্তদের দোষারোপ করা, দ্রুত সমস্ত প্রমাণ নষ্ট করা, মামলা নথিভুক্ত না করা ও অভিযানের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে জজ মিয়ার নাটক উত্থাপন করে।
একদিকে যখন সরকার নিজেদের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে তারা দায়ীদের দায়মুক্তি দিতে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছিল। যেন ভবিষ্যতেও ন্যায় বিচার করা সম্ভব না হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে হত্যার প্রায় ৩০ বছর পর শেখ হাসিনাকে হত্যার চক্রান্ত যে তার পরিবার ও দলকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা সেটি জনগণ ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিল।
বঙ্গবন্ধুর অকাল মৃত্যু দেশে একটি পাকিস্তানপন্থী, ভারত-বিরোধী ও ধর্মভিত্তিক সরকারকে ক্ষমতায় এনেছিল। যাদের নেপথ্যে সমর্থনে ছিলেন সেনাবাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। অভ্যুত্থানের এক সপ্তাহের মধ্যে জিয়া সেনাপ্রধান হন ও ইনডেমনিটি আইন পাস করে ঘাতকদের রক্ষা করেন এবং বিদেশে পাঠিয়ে দেন।
পঁচাত্তরের গণহত্যা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন ও জামাত-ই-ইসলাম এর পুনর্বাসন ঘটিয়েছিল। স্বাধীনতার পরে জাতির পিতার নিষিদ্ধ করা দলটি ফের রাজনীতিতে ফিরতে পেরেছিল।
২১শে আগস্টের হামলা ছিল রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সমমনা সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতা দখলে বিএনপি-জামাতের মাস্টার প্ল্যানের একটি অংশ।
শেখ হাসিনা যেখান থেকে সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন, সেই ট্রাক ও আশপাশের এলাকায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। হাসিনাকে তার দলীয় সহকর্মী এবং নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারা গঠিত একটি মানব ঢাল দ্বারা রক্ষা করা হলেও বিস্ফোরণের কারণে তিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন।
এতে মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ অন্তত ২৪ জন নিহত এবং কয়েক শতাধিক গুরুতর আহত হন।
রবিবার (২১ আগস্ট) গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয়ে বিশেষ দোয়া মাহফিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ প্রতিবাদ সভা সফল করতে মোগরাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ প্রত্যাশী শফিকুল ইসলাম সাগরের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল নিয়ে সভায় অংশগ্রহণ করেন।
এ দোয়া মাহফিল ও প্রতিবাদ সভায়
সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, প্রধান বক্তা হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হাসনাত মোঃ শহিদ বাদল (ভিপি বাদল) ও প্রধান আলোচক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়সার উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া এসময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হয়ে সম্পন্ন করেন।