বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রহস্যে ঘেরা পরিবহন ব্যবসায়ী জাকির মিয়ার মৃত্যু

বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২২ | ৮:০৫ অপরাহ্ণ

রহস্যে ঘেরা পরিবহন ব্যবসায়ী জাকির মিয়ার  মৃত্যু

ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ
পরিবহন ব্যবসায়ী জাকির মিয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক না, এমন অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে।

নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁ মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বাড়ি চিনিস গ্রামের মৃত চানমিয়ার বড় ছেলে জাকির মিয়ার মৃত্যু রহস্যজনক ও হত্যাকাণ্ড বলে তার স্বজনরা এক সংবাদ সম্মেলনে এমনই অভিযোগ করেন।

তার স্বজনরা জানান , মোঃ জাকির মিয়া ( ৪৫) ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত ছিল। বিভিন্ন হাসপাতলে তিনি চিকিৎসা নেন। চিকিৎসায় অবনতি হলে দেশের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তার স্ত্রী ইতি বেগম (৩০) উন্নত চিকিৎসা না করে স্বাভাবিক গতিতে নানা জায়গায় অপচিকিৎসা চালায়। তার জানা ঢাকা একটি হসপিটালে ভর্তি করে কিছুদিন চিকিৎসা নিলে পরবর্তীতে বাড়িতে নিয়ে আসে। ওই হসপিটাল থেকে তার শারীরিক অবনতির অবস্থা তার স্ত্রী ইতি বেগম, তার শাশুড়ি মোরশেদা বেগম(৭০)ও তার সম্বন্ধী রিপন মিয়া (৪৫)কে জানিয়ে দেয় এবং তাকে বাঁচাতে চাইলে উন্নত মানের চিকিৎসা গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেন। কিন্তু এ বিষয়গুলো মৃত জাকির মিয়ার ভাই বোনদের কাছে গোপন করে। কারণ যদি তার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর তারা জানতে পারে মৃত জাকির মিয়া তার ওসিয়ত পূর্ণ করতে পারবে তাই তার স্ত্রী ইতি বেগম তার স্বামী জাকির মিয়ার মৃত্যু নির্দিষ্ট সময়সীমা গোপন করে। যাতে মৃত জাকির মিয়া তার ভাই বোনদের সম্পদ বন্টন করে না দিতে পারে। সেই লক্ষ্যে তার স্ত্রী ইতি বেগম ও শাশুড়ি মোরশেদা বেগম ও রিপন মিয়া চক্রান্ত করে পরিবারের কাছে তার শারীরিক অবনতির কথা গোপন করে। এভাবে তাঁকে উন্নত চিকিৎসা না করার কারণে সে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ঠিক ১১ জুলাই ২০১৭ তারিখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার জীবদ্দশায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও সুচিকিৎসার অভাবে দুকেদুকে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নেন। তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন এর অর্থ-সম্পত্তি লোভের কারণে সুচিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন এটা কোন ভাবেই বুঝতে দেয়নি তার স্ত্রী ইতি বেগম। তার জানাজার পর পরই তার স্ত্রী ইতি বেগম ও সম্বন্ধী রিপন মিয়া তার শাশুড়ি খোরশেদা বেগম যাবতীয় চিকিৎসার ফাইলপত্র ডকুমেন্ট মৃত জাকির মিয়ার বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলে। তার স্বজনরা ও ভাই বোনেরা তার চিকিৎসার রিপোর্ট দেখাতে বললে নানারকম তাল বাহানা দেখিয়ে কাটিয়ে পড়ে। এভাবেই ধীরে ধীরে তার মৃত্যুর কারণ কালো চাদরে ঢেকে পরে। কারণ তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুব সতর্কতার সাথে এই চক্রান্ত গুলো করেন যার দরুন মৃতের স্বজনরা কোনোভাবেই তাদের এই চক্রান্ত বুঝতে পারে নাই। এভাবেই পাঁচটি বছর পার হয়ে গেলে সম্পদ নিয়ে যখন তালবাহানা শুরু করে তখন পরিবারের সন্দেহ হলে তার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য নানারকম কার্যক্রম ও সাংবাদিকদের অবগতি করেন। তার স্বজনদের দাবি জাকির মিয়ার মৃত্যু কোন স্বাভাবিকভাবে হয়নি তার সুচিকিৎসা না করে তাকে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয়। তারা বলেন আমরা এর সঠিক তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন