ঝফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্ল ফাউন্ডেশন (জাদুঘর)। এই জাদুঘরটি মূলত কারু শিল্পের বিভিন্ন জিনিস পত্র কেনা -বেচা হত এবং এগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গ্রাম্য জিনিস পত্র এনে প্রর্দশীত হত।তার পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন এলাকার লোকজন এখানে দোকান বসিয়ে ব্যবসা বানিজ্য করত। প্রতি বছর এখানে গ্রাম্য মেলা বসে। গ্রাম্য জিনিস পত্র নিয়ে। প্রচুর লোকজন হয়।সেই ধারা বাহিকতায় এখানকার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্টু মিয়া দোকানদারী করত প্রায় ৯৬ সাল থেকে অনেক বছর যাবৎ কিন্তু সে আল্লাহ্ তায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে চীরকালের জন্য দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় ২০২০সালে।রেখে যায় তার সন্তান সন্ততি।
সেই মতে তার ছোট ছেলে বাবার সাথে থেকে দোকানদারি করত মোঃ সিরাজুল ইসলাম। সে দীর্ঘদিন যাবৎ বাবার সাথে ঐ জাদুঘরে দোকান চালিয়ে আসছিল। কিন্ত কি কারনে তাকে জাদূঘর কর্ত্কপক্ষ হঠাৎ দোকান ছেড়ে দিতে বলে তা সে জানে না। জানতে চাইলে বলে তোমাদের কোন কারুপল্লীর কাগজ পত্র নাই তোমারা কোন কাগজপত্র দেওয় নাই। তোমাদের এই জাদুঘরের ভিতর রাখা যাবেনা।তোমরা এখান থেকে চলে যাও।
তিনি অফিসিয়ালি নোটিস করেছেন ৭দিন আগে হঠাৎ করে ৭দিন যেতে না যেতে পরিচালক ২০থেকে ৩০জন আনসার বাহিনী নিয়ে কারুপল্লী এলাকায়১ম রোজায় সকাল ১০ঘটিকার সময় সিরাজুলের দোকানে হানা দেয়।
একপর্যায়ে তিনি সিরাজকে দোকান থেকে চর থাপ্পর মেরে গলাধাক্বা দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং দোকানের জিনিস পত্র ফেলে দেওয়া হয়।সিরাজুল তার কাছে সময় চাইলে তাকে সময়ও দেওয়া হয়নি। তার দোকান সিলগালা করে দেওয়া হয়।
এখন সিরাজুলের বক্তব্যে বলেন, দোকানটি আমার বাবার নামে ছিল।আমি অনেক বছর যাবৎ আমার বাবার সাথে এই কারুপল্লীতে দোকানদারি করে আসছি। অত্র এলাকার আশেপাশের সকল লোকজন ও দোকানদার এ বিষয়ে জানে,আপনারা সরেজমিনে এসে জানতে পারেন। আমি এই সোনারগাঁ কারুপল্লীতে শুরু থেকে এখানে আছি। আমাকে কেউ তেমন কিছু বলেনাই।আমি অফিসিয়াল ভাবেই আমি আমার দোকান ঠিকঠাক মত চালাচ্ছি। এখন যদি আমাকে দোকানদারি করতে দেওয়া না হয় তাহলে আমি কি করে চলব।আমি বেকার হয়ে যাব। আমার পক্ষে কি করা সম্ভব। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আপনাদের সহযোগীতা কামনা করছি। শুনেছি সরকার মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সরকারি কোটায় একটা সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষন করছি আমাকে একটু সাহায্য করার জন্য। আমি যেন দোকানদারি করার সূযোগ পাই।
সাংবাদিকেদর জবাবে বাংলাদেশ লোকও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড.আহম্মেদ উল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে গত ৩ তারিখ সকাল ১০ঘটিকার ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমিও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করি। আমি তাদের কোন উল্টাপাল্টা কথা বলি নাই।চরথাপ্তর এর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন না ব্যাপারে আমি কিছুই করি নাই। আপনারা আশে পাশের দোকানদারদের কাছ থেকে জানতে পারবেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল যে এক দোকাদার বলছে তিনি আনসার বাহিনী নিয়ে দোকানের ভিতর ডুকে সিরাজুলকে প্রথমে বের করে দেন পরে সিরাজুল আবার দোকানে প্রবেশ করলে তাকে চরথাপ্পর মেরে দোকান থেকে বের করে দোকান সিলগালা করে দিয়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা ডিপুটি কমান্ডার উসমান গনির কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারবেন না সাফ জানিয়ে দেন।