ফাহাদুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার:
পরিবহন ব্যবসার আড়ালে সন্ত্রাস বাহিনী পোষে রাখার সখ শামসু মিয়ার, পর্দার আড়ালে অনুপ্রেরণা যোগিয়ে যাচ্ছে তারই স্ত্রী হীরা বেগম। শীতলতম মেঘনা পারের ঝাউচরের উত্তপ্ত এই দম্পতির বাহিনী পোষার ধরনটাও যেনো ব্যতিক্রম। ডিবি পুলিশ পরিচয় থেকে শুরু করে নানান তেলেসমাতি কৌশলে দক্ষ এই বাহিনী। কেউবা ড্রাইভার অথবা বাসের হেলপার, কেউবা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থানরত, কেউবা তাৎক্ষণিক সংঘর্ষ বাধানোর অপেক্ষায় নজর রাখছে মোবাইলে। এভাবেই একটু একটু করে ‘সন্ত্রাসবাদ ব্যবসায়ের’ লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে শামসু মিয়া দম্পতি। জানা গেছে বাহিনীর বেশিরভাগই পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর ও প্রতাবেরচর এলাকার বাসিন্দা। এখন জানা যাক তাদের সংঘর্ষ বাধানোর একটি প্রক্রিয়া, ১৩’ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আনুমানিক সন্ধ্যা সাতটায় সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন আওয়ামী লীগ ক্লাবের সম্মুখে হীরা বেগম তুমুল বাকবিতণ্ডা করছে এক যুবকের সঙ্গে। তর্কের ফলে আশপাশের মানুষ বুঝতে পারে যুবকটি জাতীয় দৈনিক বঙ্গজননী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ফাহাদুল ইসলাম (৩৩)। তারই মালিকানাধীন একটি গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড়ানো অতঃপর হীরা বেগমের গাড়ি সেই দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে এসে আঘাত করে, চালক হিসেবে ছিল বিল্লাল হোসেন নামে শামসু মিয়ার পালিত সন্ত্রাস। আর তা নিয়ে যত তর্ক। তর্কের এক পর্যায়ে শামসু মিয়ার নিকট মোবাইলে সাহায্য চাইল হীরা বেগম। এর মিনিট কয়েক পরই সন্ডা গন্ডা দেহী বেশ কয়েকজন উপস্থিত হয়েই চালক বিল্লাল ও হীরা বেগম সহ সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ শুরু করে। পরে যুবকটি মাটিতে পড়ে গেলে লাথি, কিল, ঘুষি সহ গুরুতর আঘাত করতে থাকে, পরবর্তীতে শামসু মিয়ার নির্দেশে সকলে টানা হেচরা করে কাঁচাবাজারের শেষ প্রান্তে মিনি খালি ব্রিজ পর্যন্ত নিয়ে যায়। আশেপাশের মানুষ বাধা দিতে আসলে তারা ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সকলকে তাড়িয়ে দেয় অতঃপর সিএনজিতে উঠিয়ে মেঘনা শিল্প নগরী স্কুলের সামনে নিয়ে যায়। এছাড়া সিএনজির ভিতরে লাগাতার নির্যাতন চালাতে থাকে। পরবর্তীতে মৃত ভেবে স্কুলের সামনে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায় শামসু বাহিনী। অতঃপর রাত ৯.০০ টায় আশেপাশের লোকের হস্তক্ষেপে তার বাড়িতে খবর পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে হাসপাতালে নেয়ার পথেই জ্ঞান ফিরে আসে। এছাড়াও গোপনসূত্রে তাদের নানান কুকীর্তির কথা জানা গেছে।
পরদিন সাংবাদিক ফাহাদুল ইসলামের স্ত্রী বাদী হয়ে সামসু মিয়াকে প্রধান আসামি করে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।