ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভবনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত মজিদ সরকারের ছেলে শহিদ সরকারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠেছে।
নানা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থে তিনি ঢাকা ও সোনারগাঁয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। দামি গাড়ি কিনেছেন। এ ছাড়া তার দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ উপায়ে তার কোটি কোটি টাকা অর্জন এবং বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগের তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। এ অনিয়ম দুর্নীতির প্রধান দূর্নীতিবাজ দলিল লিখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির খলিল- শহীদ পরিষদের সেক্রেটারি শহীদ সরকার ও তার সহযোগী নয়ন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গা জমি রেজিস্ট্রিশনে কর ফাঁকি ও অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করে দূর্নীতি দমন কমিশন সহ বিভিন্ন দপ্তরে।
দলিল লিখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির অভিযোগ থেকে জানা গেছে-শহীদ সরকার সমিতির সেক্রেটারি দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া ঘুস, দুর্নীতি-অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি শুরু করেন। এ কাজে তাকে দলিল লিখক নয়ন সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করে । অনিয়ম-দুর্নীতি করে তারা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। রাজধানী ঢাকা সহ সোনারগাঁয়ে বহুতল ভবন ও বিভিন্ন এলাকায় জায়গা জমির মালিক, যার বাজার মূল্য ৫০ কুটি টাকা। শুধু তাই নয় গড়ে তুলেছেন সরকার ফার্নিচার ব্যবসা, যার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। এছাড়াও সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখেন। সোনারগাঁ ভেন্ডার সমিতির সেক্রেটারী পদ না, যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে গেছেন। পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে কালো টাকার পাহাড় গড়েছেন শহীদ সরকার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈদ্যেরবাজার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একাধিক দলিল লেখক জানান, অনেক ভেণ্ডার এখনও রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দলিল করে থাকে। এসব কারণে প্রকৃত দলিল লেখকদের বদনাম হয়। এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার। শহীদ সরকার পদের অপব্যবহার করে এ সমস্ত দুর্নীতিবাজ দলিল লেখকদের সমর্থন দিয়ে থাকে। তাদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। দলিল জালিয়াতি সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত শহীদ সরকার, স্থানীয় হওয়ায় ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে দলিল জালিয়াতি, ভুয়া দলিল তৈরি করা, নকল দলিল তৈরি করে জায়গা জমি দখল করে নেওয়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।হাতে টাকা না পেলে তিনি দলিলে স্বাক্ষর করেন না। ঘুস ছাড়া একটি ছোট কাজও করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘুস না পেলে দলিল তিনি দিনের পর দিন ফেলে রাখেন। ফলে দলিল গ্রহীতারা সার্টিফায়েড কপি পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হন। এ ছাড়া দাতা ও গ্রহীতা এবং দলিল লেখকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শহীদের প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। সব সময় তিনি কর্কশ ভাষায় কথা বলেন।
রাজনীতিতে তার ভেলকি বাজি , জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ক্ষমতা হারানোর পর আওয়ামীলীগে যোগদান করেন, কিছু দিন পর নিজের স্বার্থ উদ্ধারে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন কিন্তু নানা অপকর্মের কারনে বহিস্কার করা হয় তাকে। কোন রাস্তা খুঁজে না পেয়ে যোগ দেন হেফাজত ইসলামে এবং মামলা ও খান হেফাজত সহিংসতার। এ হল তার রাজনৈতিক চরিত্র।
জানা গেছে, ২০২১ সালে ১৮ লাখ টাকা ঘুস নিয়ে শহীদ সরকার দুটি জাল দলিল সম্পাদন করেছেন। এ জাল দলিলে তিনজনকে (দাতা) ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী। রাজস্ব ফাঁকির জন্য জমির দামও দেখানো হয়েছে। শহীদের ঘুস-দুর্নীতির মূল হাতিয়ার নয়ন সরকার। দলিল নিবন্ধনের পরিচয়পত্র ও প্রত্যয়নপত্র না থাকলেও তার নিজের লোকদের মাধ্যমে দলিল গ্রহীতাকে খাস কামরায় ডেকে নিয়ে শহীদ মোটা টাকার বিনিময়ে দলিল নিবন্ধন করেন।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোনারগাঁ সাব-রেজিস্ট্রার ভেন্ডার সেক্রেটারি শহীদ সরকারের সঙ্গে যোগযোগ করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তবে এ সংক্রান্ত প্রমাণ, অভিযোগ ও নথিপত্র থাকার কথা বলা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।