বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এতিমের অধিকার হরণ, সম্পদ ভোগদখল করা শাস্তিযোগ্য মারাত্মক অপরাধ ও হারাম

ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ-

শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২২ | ৭:৩৯ অপরাহ্ণ

এতিমের অধিকার হরণ, সম্পদ ভোগদখল করা শাস্তিযোগ্য মারাত্মক অপরাধ ও হারাম

ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ জোরপূর্বক অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ গ্রাস করা মারাত্মক অপরাধ। এটি হারাম ও কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি। এতিমের সম্পদ গ্রাস করা তো দূরের কথা, এতিমের সঙ্গে কঠোরতা অবলম্বন করাও নিষেধ।

আল্লাহ তাআলা এতিমের প্রতি কোমল হওয়ার নির্দেশ দেন এভাবে-فَاَمَّا الۡیَتِیۡمَ فَلَا تَقۡهَرۡ‘সুতরাং আপনি এতিমের প্রতি কঠোরতা করবেন না।’ (সুরা দোহা : আয়াত ৯) আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ কয়েকটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম নির্দেশ ছিল- এতিমের সঙ্গে কঠোর ব্যবহার না করা। কোনো পিতৃহীনকে অসহায় ও বেওয়ারিশ মনে করে তার ধন-সম্পদ জবরদস্তিমূলকভাবে নিজ অধিকারভুক্ত করে না নেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বিষয়টি সুস্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন এভাবে-اِنَّ الَّذِیۡنَ یَاۡکُلُوۡنَ اَمۡوَالَ الۡیَتٰمٰی ظُلۡمًا اِنَّمَا یَاۡکُلُوۡنَ فِیۡ بُطُوۡنِهِمۡ نَارًا ؕ وَ سَیَصۡلَوۡنَ سَعِیۡرًا‘নিশ্চয়ই যারা পিতৃহীনদের (এতিমদের) সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা আসলে নিজেদের পেটে আগুন ভক্ষণ করে। আর অচিরেই তারা (জাহান্নামের) জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১০)

এতিমের সম্পদ গ্রাস করা বা দখল ধ্বংসাত্মক কাজের একটি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৭টি কাজকে ধ্বংসাত্মক বলেছেন; তন্মধ্যে একটি হলো- এতিমের সম্পদ গ্রাস করা। হাদিসে এসেছে-হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ পরিহার করো। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! সেগুলো কি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-১. আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা;২. জাদু করা।৩. অন্যায়ভাবে (বিনাদণ্ডে) কোনো প্রাণ সংহার (হত্যা) করা।৪. সুদ খাওয়া।৫. এতিমের সম্পদ (অন্যায়ভাবে) গ্রাস করা।৬. যুদ্ধের মাঠ থেকে পলায়ন করা এবং৭. মুমিনা পবিত্ৰা (সতি-সাধবি) নারীকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।’ (বুখারি) সুতরাং কোরআন সুন্নাহর আলোকে এটি প্রমাণিত যে, এতিমের অধিকার হরণ, সম্পদ ভোগদখল করা শাস্তিযোগ্য মারাত্মক অপরাধ ও হারাম কাজ।

মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে কুক্ষিগত করা বা আত্মসাৎ করাই নিষিদ্ধ। আর কেউ যদি এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করে তবে তা আরো জঘন্য অপরাধ বিবেচিত হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা এতিমের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করেছে এবং অচিরেই তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০) অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘এতিম পরিণত বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হয়ো না। তবে সদুপায়ে (সম্পদের উন্নতি করার লক্ষ্যে) তা ব্যবহার করা যাবে। আর প্রতিশ্রুতি পূরণ করো। কেননা (কিয়ামতের দিন) প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৪)

তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরআনের নির্দেশনা অনুসারে উম্মতে মুহাম্মাদির সবাইকে এতিমের প্রতি কোমল হওয়ার কথা বলেছেন। বেদনা ও কষ্টদায়ক আচরণ করতে নিষেধ করেছেন।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন