বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বদলে যাচ্ছে সোনারগাঁয়ের রাজনীতির সংজ্ঞা: প্রসঙ্গ দুর্নীতিবাজ ও হাইব্রিড

শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ৯:১৬ অপরাহ্ণ

বদলে যাচ্ছে সোনারগাঁয়ের রাজনীতির সংজ্ঞা: প্রসঙ্গ দুর্নীতিবাজ ও হাইব্রিড

ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ দেশে রাজনীতিতে প্রতিনিয়ত নতুন মুখ আসছে; কিন্তু পুরনোরা মনেপ্রাণে ভালোবেসে দলকে আঁকড়ে ধরলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বেশি দর কষাকষিতে যেতে পারছেন না। যে কারণে তারা দলে থাকলেও বড় কোনো পদে বা আদৌ কোনো পদে থাকছেন না। আর এই পদগুলো দিন দিন নতুনরা দখল করে নিচ্ছে।

অবশ্য এমনটি হওয়া খুব বেশি অবাক হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। প্রকৃতির নিয়মে প্রবীণরা সক্রিয় কাজকর্ম থেকে কিছুটা সরে যাবেন, আর তাদের স্থান দখল করবে নতুন ও তরুণ কর্মীরা। প্রবীণ, নীতিবান, দলের প্রতি নিষ্ঠাবান কর্মী দলকে ভালোবেসে তা আঁকড়ে ধরলেও মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসবে তরুণ, উদ্যমী ও দলকে ভালোবাসে এমন একদল নতুন নেতাকর্মী। কিন্তু দেশের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের নামে এক ধরনের হাইব্রিড নেতাদের আসতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী, সুবিধাভোগী হাইব্রিডদের প্রবেশ করতে দেখা যাচ্ছে। যা একটি ঐতিহ্যবাহী ও স্বাধীনতার চেতনায় নিবেদিত দলের জন্য উদ্বেগজনক।এমনই এক হাইব্রিড নেতার সন্ধান মিলেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের মাসুম আহম্মেদের ।

তিনি সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের মন্জুর খোলা এলাকার আফতাব উদ্দিন মোল্লার ছেলে। আর এই আফতাব উদ্দিন ছিলেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত ফজল চেয়ারম্যান এর একান্ত ঘনিষ্ঠ সহচর।বিএনপির আমলে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বিএনপির রাজনীতিতে, অপর দিকে মাসুমের মামা আজিজুর রহমান ছিলেন কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপর ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার আপন খালু বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আঃমালেক,এখনো তারা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় অবস্থানে আছেন আর তাদেররই ছেলে এখন আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগের সোনারগাঁ উপজেলার সাধারন সম্পাদক পদ পেতে মরিয়া মাসুম আহম্মেদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জানান,কাঁচপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং বর্তমানে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাসুম আহমেদ বিএনপি পরিবারের সন্তান। সে কিভাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগে ঠাই পায়।

এলাকাবাসী জানায়,বিএনপির আমলে তার পরিবার সবাই বিএনপি জামাত রাজনীতির সাথে জড়িত।বিএনপি জামাত সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় তারা নিজস্ব বাহিনী গঠণ করে ফজল চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে অনেক তৃণমূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করেছিলো। পরবর্তীতে দেশে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কিছুদিন গা-ঢাকা দেয়।

তবে গত (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির এক মতবিনিময় সভায় সুবিধাবাদী, হাইব্রিড নেতারা যেন ঠাই না পায় এমনটাই দাবি করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য মাসুম আহমেদের মুঠো ফোনে ফোন দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন। এবং তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের মামলার হুমকি দেন।

দেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের এবং স্বাধীনতার চেতনার পক্ষের প্রবীণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে গত এক দশকে নতুন অনেক নেতাকর্মী যোগ হয়েছে। আর এই নতুন নেতাকর্মীদের মাঝে কিছু হাইব্রিড নেতাকর্মীও জুটেছে। এই হাইব্রিড নেতাকর্মীদের জন্য আওয়ামী লীগ এমনকি অতীতে যেসব দল ক্ষমতায় ছিল, তাদেরকেও বিভিন্ন সময়ে বেশ বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। এই হাইব্রিড নেতাকর্মীরা মূলত সুবিধাভোগী হিসেবেই দলে প্রবেশ করে এবং নিজেদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার দলের সদস্য হিসেবে ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে নিজেদের ফায়দা লুটে।

এতে দলের দুর্নাম হয়, ত্যাগী নেতাদের সুনামের হানি ঘটে, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। ফল হিসেবে তাদের মাঝে হতাশা ও বঞ্চনার সৃষ্টি হয় এবং পরিশেষে ক্ষোভ জেগে ওঠে। যা একটি জনগণতান্ত্রিক দলের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ। এতে করে সরকার পরিচালনাকারী একটি অংশ অনেক বিভাগে অকর্মণ্য হয়ে পড়ে এবং সরকারের নীতিমালা প্রয়োগে বাধার সৃষ্টি হয়। জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দল বা সরকার ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে।

আমরা দেখেছি বিএনপি শাসনামলে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র কোনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না থেকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানাভাবে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সরকারি অনেক কর্মে বিশেষ করে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি অনেকটা শেয়ারহোল্ডারের মতো কাজ করছিলেন। সরকার ও মন্ত্রী পরিষদের নেওয়া অনেক উন্নয়নমূলক কাজে তিনি বিভিন্ন ঠিকাদার এবং বাস্তবায়নকারী কমিটির কাছ থেকে নানা উপায়ে বখরা নিতেন। এতে উন্নয়নকর্ম গতিহীন হয়ে পড়েছিল এবং উন্নয়ন বাস্তবায়নকারী কমিটি নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছিল। শুধু তাই নয়, দলকে নিজের খেয়াল খুশিমতো পরিচালনার জন্য অনেক সৎ, নিষ্ঠাবান, নির্লোভ নেতাকর্মী নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছিল। সরকারি নীতি ও দলীয় নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। তবে এ ধারা শুধু যে বিএনপির সময় ঘটেছিল, এমনটি নয়। অন্যান্য সরকারের আমলেও ঘটেছে। তাদের সময়েও সরকারি নীতি ও দলীয় নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাতে তখনকার সরকারের বদনাম হয়েছে। ইতিহাস তার সাক্ষী। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির এ যুগে আমরা ইচ্ছে করলে খুব সহজেই এ বিষয়ক তথ্য ও ইতিহাস জানতে পারি।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সামসুল ইসলাম ভুইয়া বলেন,বিএনপির কোন লোক আওয়ামী লীগে ঠাই নেই,আওয়ামীলীগে কোন হাইব্রিড কাউয়াদের ঠাই হবে না।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন