বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সার্ভেয়ার নুরে আলমের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ ভূমি অফিসে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ

মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট ২০২২ | ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

সার্ভেয়ার নুরে আলমের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ ভূমি অফিসে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ

সোনারগাঁ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ভূমি অফিসে সার্ভেয়ারের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ সেবা প্রত্যাশী সোনারগাঁ উপজেলার সাধারণ জনগন। নিজের স্বপ্নের ধন ভিটেমাটির জাল দলিল, অবৈধ দখলসহ বিভিন্ন কারণে ভূক্তভোগীরা বাধ্য হোন মিসকেস করতে। এতে নিজের ভিটেমাটি সুক্ষার জন্য তারা ন্যায় বিচারের আশায় ভূমি অফিসের শরনাপন্ন হন কিন্তু সার্ভেয়ার যখন মূর্তমান আতংক হয়ে দেখা দেয় তখনই সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

তিন বছরেরও বেশী সময় ধরে কর্মরত উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সার্ভেয়ার নুরে আলমকে সাধারণ ভুক্তভোগীরা অনেকে দিনকে রাত বানানোর কারিগর বলে ডাকেন। মিসকেসে ভূমির সরেজমিন প্রতিবেদনে নয়-ছয়, প্রভাবশালী মহলের আর্থিক সুবিধা নিয়ে গরীবদের জমি আরেকজনকে দেয়াসহ তার বিরুদ্ধে এসময়ের মধ্যে অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৫ বছর আগে নিজের সম্পত্তির জাল দলিল ও বেহাত ঠেকাতে মিসকেস করেছিলেন পিরোজপুর ইউনিয়নের ভবনাথপুর গ্রামের মোঃ আতাউর রহমান। এরপর মাসে ১ বার কখনো বা ৩ মাসে ১ বার হাজিরা দিয়ে আর ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের তদবির করে প্রায় আড়াই বছর পর একদিন সকালে জানতে পারেন তার মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। নেপথ্যের নায়ক সার্ভেয়ার নুরে আলম। এই কষ্টে মোঃ আতাউর রহমান একসময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি অভিযোগ করেন, তার প্রতিপক্ষ সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মামলাটি বাতিল করিয়েছেন। তিনি বলেন, জায়গাটি পুরোপুরি আমার দখলে, কিন্তু সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে কথিত সেই সার্ভেয়ার নুরে আলম জমিটি আমার প্রতিপক্ষের দখলে বলে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছেন। আমার অগোচরে মামলার তারিখ ফেলে আমাকে গড় হাজির দেখিয়েছেন এবং মামলাটি খারিজ করার সব আয়োজন করেছে্ন। তার সাথে ভূমি অফিসের আরও কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাও জড়িত। তিনি মামলাটি আবার পূনঃতদন্তের আবেদন করলে সেটি গৃহীত হয়। কিন্তু সেটিও দীর্ঘ সময় ধরে ফেলে রাখা হয়েছে।

আতাউর রহমানের পরিবারের দাবি তিনি বাবার ভিটেমাটি হারানোর শোকে কাতর হয়ে জানুয়ারী মাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ জন্য জমি সংক্রান্ত জটিলতা আর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও কর্মকর্তাদের অসহযোগিতাই একমাত্র দায়ী।

বেপরোয়া দূর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার নূরে আলমের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ পৌরসভার খাগুটিয়া এলাকার মৃত. আব্দুল মালেক বেপারীর ওয়ারিশগণ অভিযোগ করেছেন যে, তারা ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাগমহিষা মৌজায় আর এস খতিয়ান ১০, দাগ নং-এস এ ২২ ও আর এস ১৬৪ এর ২৯ শতাংশ জায়গা ওয়ারিশসূত্রে ভোগ দখল করে আসছেন। ২০২০ সালে আব্দুল মালেক বেপারী মারা গেলে তার ভাই মৃত. সামছুদ্দিনের সন্তান মোঃ জাকির হোসেন পিতা-মৃত সামছুদ্দিন উক্ত ভুমির ৬ শতাংশের মালিকানা দাবী করে হুমকি দিয়ে আসছিল। এপ্রেক্ষিতে আব্দুল মালেক বেপারীর ওয়ারিশগণ নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে, সিনিয়র সহকারি জজ, সোনারগাঁ আদালত, নারায়ণগঞ্জ-এ একটি মামলা নং দেওয়ানী মোকদ্দমা ২০২০ দায়ের করেন। সে মোতাবেক আদালত ৪/৪/২০২২ তারিখে ঐ জমির উপর স্থিতিতাবস্থা জারি করেন। মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ স্থিতিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য দু’পক্ষকেই সতর্ক করে আদেশ দেয় আদালত। এরপর মোঃ জাকির হোসেন গং নিন্ম আদালতে পাল্টা মামলা করতে গেলে উচ্চ আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা চলমান থাকায় তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর মোঃ জাকির হোসেন সোনারগাঁ ভুমি অফিসে একটি মিসকেস ৩২৬/২০২০ইং দায়ের করেন। সে প্রেক্ষিতে সার্ভেয়ার নুরে আলম ৯/৩/২০২১ইং তারিখে একটি নোটিশ করে বাদী ও বিবাদীকে ২৫/৩/২১ইং এ সোনারগাঁ ভূমি অফিসে হাজির হতে বলে। সে মোতাবেক দু’পক্ষের কাগজপত্র দেখে তৎকালীন ভূমি কমিশনার গোলাম মোস্তাফা মুন্না জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় শুনানী করলেও কোন রায় দেননি।

মৃত. আব্দুল মালেকের ওয়ারিশগনের পক্ষে মাওলানা সাব্বির আহম্মেদ জানান, তৎকালীন ভূমি কমিশনার গোলাম মোস্তাফা মুন্না (পরিচিতি নং-১৮১০৭) শুনানীতে মিসকেসের বাদী মোঃ জাকির হোসেনের উপস্থাপিত কাগজপত্র যথেষ্ট নয় বলে জানান এবং বিবাদীপক্ষ মৃত. আব্দুল মালেক বেপারীর ওয়ারিশগণকে তাদের কাগজপত্র সঠিক বলে মৌখিক স্বিকৃতি দেন। তৎকালীন ভূমি কমিশনার মোস্তফা কামাল মুন্না এ মিসকেসের রায়ের বিষয়ে পরবর্তীতে জানাবেন বলে শুনানী শেষ করেন এবং সার্ভেয়ার নুরে আলমকে নথিভুক্ত করতে নির্দেশ দেন। এরপর দিনের পর দিন মৃত. আব্দুল মালেকের ওয়ারিশগণকে আজ আসেন কাল আসেন বলে সময়ক্ষেপন করতে থাকে সার্ভেয়ার নূরে আলম। এভাবে কেটে যায় ১৭ মাস বা প্রায় দেড় বছর। চলতি মাসের ১৬ আগষ্ট ২০২২ইং সার্ভেয়ার নূরে আলম মৃত. আব্দুল মালেকের ওয়ারিশগনের হাতে ধরিয়ে দেন একটি রায়ের কপি। যেখানে সকল কাগজপত্র সঠিক ও দখল থাকা সত্বেও মৃত. আব্দুল মালেকের ওয়ারিশগনের বিপক্ষে রায় দেয়া হয়েছে। মজার বিষয় হলো-সার্ভেয়ার নুরে আলমের হাত ধরে মামলার রায়ের আগে জমিটির নামজারিও হয়ে গেছে। অর্থাৎ মিসকেসের রায়ে তারিখ ১৬/৮/২০২২ লেখা থাকলেও জমিটির নামজারির তারিখ ২৮/৬/২০২২ লেখা। মানে মামলার রায়ের ১ মাস ২০ দিন আগে জমিটির নামজারি হয়ে গেছে। অথচ তাদের কাছে সব কিছুই পরিকল্পিতভাবে আড়াল করা হয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব? মিসকেসের রায়ের আগে কিভাবে জমিটির নামজারি করা হলো? আবার প্রশ্ন হলো, উচ্চ আদালতে মামলা থাকা সত্বেও সোনারগাঁ ভুমি অফিস রায় দিয়েছে কিভাবে?

মৃত. আব্দুল মালেকের ওয়ারিশগণ অভিযোগ করেছেন, সার্ভেয়ার নূরে আলম বলেছেন, এ রায়ের আগে নাকি আমাদের কয়েক দফা নোটিশ পাঠিয়েছে। অথচ আমরা গত ১৭ মাসে কোন নোটিশ পাইনি।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন