ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ
নিজস্ব সেন্ট্রাল ইটিপি প্লান্ট ব্যবহার না করায় নারায়ণগঞ্জের, সোনারগাঁয়ে ডাইং কারখানাগুলোর কেমিক্যালের বর্জ্য মিশছে নদীতে। এতে ভয়াবহ দূষণের মুখে পড়েছে শীতলক্ষ্যাসহ জেলার ৬টি নদী। এমনকি নদীর পানির সঙ্গে দূষিত হচ্ছে খালগুলোর আশপাশের পরিবেশও।
তেমনি দূষিত হচ্ছে সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীর শাখা মারি খালি ব্রিজ দিয়ে প্রবাহিত বাড়িমজলীশ, সাদিপুর, গোয়ালদী পর্যন্ত খালটি কোম্পানির দূষিত কালো পানি ও বর্জে দুরবস্থা।
সোনারগাঁও উপজেলার খাল -বিল নদ- নদীগুলো স্থানীয় ডাইং কারখানার কেমিক্যাল বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল,চৈতী পার্ক, ইউসান, ক্যান্টাকী সহ বেশ কিছু ডাইয়িংক ।
এ বিষয়ে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ হোসাইন সাক্ষাৎকারে বলেন, সোনারগাঁ ঢাকা নিকটবর্তী হওয়া এলাকাটি ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
শিল্প প্রতিষ্ঠান দেশের সম্প ও বেকার সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম কিন্তু পরিবেশ নষ্ট করে না।
অপরিকল্পিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের কারণেই সোনারগাঁওয়ে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরট সহ দূষণের কবলে। দূষণের তালিকায় চৈতী পার্ক, ইউসান, ক্যান্টাকী সব বেশ কিছু ডাইয়িংক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কারনা করছি।
জানা গেছে, শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা ও বালু নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁয়ে ডাইং কারখানাসহ তরল বর্জ্য নির্গমনকারী শিল্পকারখানাগুলো গড়ে ওঠেছে।
ছোট-বড় সাড়ে শতাধিক ডাইং কারখানা রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে দুই শতাধিক। নদীকেন্দ্রিক এসব কারখানার অধিকাংশই ব্যবহার করছে না তাদের নিজস্ব ইটিপি প্লান্ট।
এসব কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যালের বর্জ্য নদীতে মিশে ভয়াবহ দূষণের সৃষ্টি করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে নারায়ণগঞ্জে, সোনারগাঁয়ে সেন্ট্রাল ইটিপি প্লান্ট স্থাপনের জন্য ১৫ বছর ধরে দাবি জানালেও কোনো প্রতিকার পায়নি। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদফতরও বলছে সেন্ট্রাল ইটিপির প্রয়োজনীয়তার কথা।
এই বিষয় নিয়ে সোনারগাঁয়ের সচেতন নাগরিকদের মন্তব্যে, সোনারগাঁয়ের আগের সেই খাল বিলের সৌন্দর্য নেই। বর্ষাকালে থৈ থৈ পানি ঝমকালো আওয়াজে মন ভরে যেত। পানি ছিল স্বচ্ছ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র। যখনি বিষাক্ত কেমিক্যালের ডাইং কারখানার কোম্পানিগুলো আবির্ভাব ঘটল তখন থেকেই শুরু হল খাল- বিল ভরাট সহ দূষিত কালাপানি ও বর্জ্যে খাল বিল, নদ-নদীর ধ্বংস। বিগত ১৫ বছর ধরে চলছে নিষিদ্ধ বিষাক্ত কেমিক্যাল কোম্পানির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ এমপি মহোদয়ের একাধিকবার বিষাক্ত বর্জ্য বন্ধ করার পদক্ষেপ নিলেও স্থায়ী সমাধান মিলেনি আজও। এভাবেই ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেল সোনার গায়ের সেই সৌন্দর্য নদ-নদী খাল- বিলের।
আজও অপেক্ষায় সোনারগাঁবাসী কবে ঘটবে তার অবসান ফিরে পাবে বিগত সময়ের খাল বিলের সেই সৌন্দর্য, সেই মনোরম পরিবেশ, দূষণমুক্ত আবহাওয়া ও স্বচ্ছ খালের পানি।