সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সড়ক ও জনপথের নারায়ণগঞ্জ বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন সড়ক-মহাসড়কে প্রায় শতাধিক সাইনবোর্ড লাগিয়ে সরকারি রাজস্বের টাকা সরকারি খাতে জমা না হয়ে সড়ক ও জনপথের নারায়গঞ্জ বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পকেটে। যাত্রাবাড়ী থেকে মেঘনা গোমতী সেতু, সিলেট মহাসড়কে ভুলতা-গাউছিয়া ও সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রায় শতাধিক সাইনবোর্ড দৃশ্যমান। সাইনবোর্ড নারায়ণগঞ্জ সওজের যেই টেন্ডারের মাধ্যমে হওয়ার কথা। সেখানে টেন্ডার না হয়ে সাইনবোর্ডের টাকা সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পকেটে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক সড়ক। সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার দুপাশে তাকালেই চোখ ধাধানো বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি যা অবৈধভাবে বিভিন্ন কোম্পানিকে ভাড়া দিয়ে রেখেছে সওজের অসাধু কর্মচারিরা। সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন কোম্পানির সাইনবোর্ড,
ব্যানার। এতে সরকার বছরে কোটি কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে, পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে সড়কের সৌন্দর্য এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ বিলবোর্ড বসানো হয়েছে যা সরকারের রাজস্ব ক্ষতির বড় কারণ।
রাস্তার দুপাশে অবৈধভাবে বিলবোর্ড স্থাপন করে বিজ্ঞাপন প্রচার করা
হচ্ছে। এছাড়া অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ব্যতীত পুরো সড়কের দুই পাশ দখলে রেখেছে।
অভিযোগে আরো জানা গেছে, দিনের পর দিন এসব সাইনবোর্ড ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট করছে সড়কের নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের অসাধু কর্মচারিরা। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, কাঁচপুর মেঘনাঘাট, দাউদকান্দি প্রতিটি মোড় ওভারব্রিজ, গাছ, ও ভবনের ছাদে বিনা অনুমতিতে বসানো হয়েছে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানার। প্রশাসন দেখেও কোনো কিছু দেখেনা বা বুঝেনা। অনেক বিলবোর্ডের ৯০ শতাংশই অবৈধ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধিমালা লঙ্ঘণ করে স্থাপন করা হয়েছে এসব অবৈধ বিলবোর্ড।
বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি জমিতে বিজ্ঞাপন দিতে হলে নির্ধারিত ভাড়ায় ইজারা নিতে হয় এবং মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করতে হয়। কিন্তু এসব নিয়ম নীতির ধার ধারে না সওজের নারায়ণগঞ্জ অফিসের কর্মচারিরা। যার কারণে সরকার হারাচ্ছে প্রতি বছর বিপুল অংকের আয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক তদারকি আর জবাব দিহিতা না থাকার কারণে এসব কর্মচারিরা দীর্ঘদিন একই জায়গায় দায়িত্ব
থেকে রাম রাজত্ব কায়েম করতে সক্ষম হয়েছে। তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করে। এই অসাধু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন বিলবোর্ড ভাড়া দিয়ে, কত টাকা আয় করে তার হিসাব তাদের কারো কাছে নেই। যে যার মতো করে এসব সাইনবোর্ডের টাকা হাতিয়ে নিয়ে লুটপাট করছে। নারায়ণগঞ্জ অফিসের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ
কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারি বলেন, সরকারি হিসেবে প্রতিটি সাইবোর্ডের সরকারি দর হিসেবে ২০ হাজার টাকা করে আসার কথা, রাস্তায় সাইনবোর্ড ঠিকই আছে, জনগণও সাইনবোর্ড পড়তেছে, দেখছে কিন্তু সরকার পাচ্ছে না কোনো রাজস্ব। বিলাবা বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের অসাধু এইসব কর্মকর্তাদের পুরোটাই পেটে যায় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। এসব অসাধু, সিন্ডিকেট কর্মচারিরা যেন টাকা হাতিয়ে সবাই নিরব। এসব অবৈধ টাকা ভাগ ভাটোয়াদের একটি তালিকা প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত আছে। ভবিষ্যতে তাদের সমস্ত ফিরিস্তি প্রকাশ করা হবে। যার নেতৃত্বে এবং যাদের পকেটে সরকারি টাকা ঢুকছে তাদের বিবরণ-মোঃ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, কার্যসহকারী (বড় বাবু), নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ তিনি নিজ ক্ষমতা বলে উচ্চমান সহকারী, আওয়ামীলীগের আমলে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি বর্তমানে বিএনপির সভাপতি। সেই বড় বাবুর নেতৃত্বে মোঃ আহসান উল্লাহ মজুমদার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সওজ নারায়ণগঞ্জ-১ ও ২.
আব্দুল্লাহ আল নোমান উপ-সহকারী প্রকৌশলী সওজ নারায়ণগঞ্জ-১, সড়ক শাখা-১, তিনি অবশ্য একই জায়গায় ৪ বছর রাম রাজত্বে মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া কম্পিউটার অপারেটর (মাস্টার রোল), নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ-২, আওয়ামীলীগের আমলে সহ-সম্পাদক বর্তমানে বিএনপির শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তিনি আবার নিয়মিত অফিস করেন না। তিনি শুধু সাইনবোর্ড নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। দেওয়ান মোঃ সোহাগ, সার্ভে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ, তিনিও ৪ বছরের বেশি একই জায়গায় দায়িত্বরত, মোঃ আল রাজী লিয়ন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সওজ ভিটি কান্দি সড়ক উপ-বিভাগ, মোঃ মনির হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সওজ সড়ক ভিটিকান্দি সড়ক উপ-বিভাগ ও মোঃ জাকির হোসেন উপ-সহাকরী প্রকৌশলী সওজ, ভিটি কান্দি সড়ক উপ-বিভাগ। সড়ক আইন অনুযায়ী অবৈধ বিলবোর্ড স্থাপনে জরিমানা ও কারাদ-ের বিধান থাকলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সওজের যায়গায় সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড ভাড়া বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রোগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া এবং সরাসরি মঞ্চ কাপানো নেই আওয়ামী নেতা বড় বাবু বলে সবাই এক নামে ডাকে বা চেনে সেই ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, দীর্ঘদিন একই জায়গায় দায়িত্ব থেকে কোটি কোটি টাকা ফায়দা লুটেছেন। তার আরেক হচ্ছে সহযোগী সার্ভে শাখার দেওয়ান মোঃ সোহাগ তিনিও ৪ বছর যাবত একই জায়গায় দায়িত্বে থেকে সব কিছুর ফাঁক ফোকর বুঝে তিনিও লক্ষ লক্ষ টাকা এই বিলবোর্ড ভাড়া দিয়ে আদায় করে নিয়েছেন বলে বিশ্বস্থ সূত্রে এবং তার সহযোগীদের মাধ্যমে জানা গেছে। অভিযোগে জানা যায়, এরা সবাই আওয়ামী পতাকা তলে সাফাই গেয়ে সরকারি টাকা লোপাট করেছে তারা এখন সবাই বোল পাল্টে আবার নব্য বিএনপির বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয় দিয়ে পার পেয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। পেয়ে যাবার চেষ্টায় নতুন করে
বিশ্লেষকরা বলছেন, সওজ ও স্থানীয়। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে এক প্রকার বিলবোর্ড সিন্ডিকেট বাণিজ্য, যা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলছে।
এলাকাবাসী বলছেন আমরা চলাচলের সময় আতঙ্কে থাকি, কখন ঝড় বৃষ্টি হলে এসব সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড ছিড়ে পড়ে আমাদের বড় ধরণের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। তাই আমরা চাই দ্রুত