নিজস্ব প্রতিবেদক :
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক বাংলাদেশি ফোরম্যানের বিরুদ্ধে সহকর্মী প্রবাসী শ্রমিকদের কয়েক মাসের বেতন আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শ্রমিকরা রিয়াদের জেদিদ সানাইয়া এলাকায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে বিচার ও পাওনা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী এবং আরাফাত হোসেন সবুজ।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, রিয়াদের জেদিদ সানাইয়া এলাকায় অবস্থিত ‘মোহাম্মদ সালিম কুরাইশি এন্ড পার্টনার’ কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেতন দীর্ঘদিন ধরে ফোরম্যানের মাধ্যমে বিতরণ করা হতো। দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই ফোরম্যানের নাম মোহাম্মদ সোহাগ। তিনি কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার বেতাগাঁও গ্রামের মমতাজ মিয়া ও বানু বিবির ছেলে বলে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বাবদ মোট ২ লাখ ৮০ হাজার সৌদি রিয়াল ফোরম্যান সোহাগের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু তিনি শ্রমিকদের হাতে বেতন পৌঁছে না দিয়ে পুরো অর্থ নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই পাওনা টাকা না পেয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পরিবারের খরচ, বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তারা এখন অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তাদের আরও অভিযোগ, পাওনা অর্থ ফেরত চাইতে গেলে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রবাসী শ্রমিক ও কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে প্রবাসীদের সঙ্গে চরম প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ দ্রুত উদ্ধার, অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।