মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ মঙ্গলবার | ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আওয়ামীলীগে বিভাজন, রাজপথে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি

শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ | ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামীলীগে বিভাজন, রাজপথে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি

নারায়নগঞ্জ জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপি ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে সক্রীয় হয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশ ঘিরে ১১ মামলায় জর্জরিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয কর্মসূচি নিয়ে আবার মাঠে নেমেছে। এতে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আবারো নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জে দলীয় কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকার পল্টনে কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসূচিতেও যোগ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে জেলার আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বিভাজন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে পুরনোরাই শীর্ষ পদে স্থান পাওয়ায় হতাশ হয়েছে আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ।

তাছাড়া সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ দুটি পদ ঘোষণা করা হলেও আড়াইমাসেরও পুর্নাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। তারউপর মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন স্থগিত হয়ে আছে। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতানেত্রীদের নিস্ক্রীয়তা তৃণমূলে প্রভাব পড়েছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির এড. সাখাওয়াত হোসেনকে আহ্বায়ক ও এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে আহবায়ক কমিটি ঘোষনা পর থেকে পূর্বের চেয়ে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে দাপুটের সাথে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন করছে। প্রতিটি কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করছে।

এছাড়াও নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে আহবায়ক ও জেলা যুবদলের আহবায়ক খোকনকে সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রবীন এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের হাতে জেলার নেতৃত্ব আসায় বিএনপিতে আগের চাইতে অনেক শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন জেলা বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের পর থেকে উজ্জীবিত দলীয় নেতাকর্মীরা। জেলা ও মহানগর বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিনই বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামছেন নানা ইসুতে। আপাতদৃস্টিতে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ পুরোটাই বিএনপির নেতাকর্মীদের দখলে রয়েছে।

বিএনপি নেতাকমীদের নামে একের পর এক মামলা হয়েছে। যা বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিকট গায়েবী মামলা বলে পরিচিত।

এছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর সরকারদলীয়রা হামলা করেছে। এসকল হামলা, মামলা, গ্রেপ্তারসহ সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা নারায়ণগঞ্জের রাজপথে মিছিল-মিটিং করে দখলে রেখেছে রাজপথ।

অপরদিকে কোন ভাবেই নিরসন করা যাচ্ছে না নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে দলীয় কোন্দল। দ্বাদশ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ঐক্য হওয়ার বদলে উল্টো দলীয় কোন্দল ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে।

গত ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের পুরাতন কোন্দল যাতে মাথাচাড়া দিয়ে না উঠে এনং কোন্দল যাতে বৃহত্তর রুপ ধারন না করে জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে সভাপতি আবদুল হাই ও এড. আবু হাসনাত শহীদ বাদলকেই পূর্নঃবহাল রাখা হয়। যা নিয়ে চাপা ক্ষোভ আওয়ামলীগের ত্যাগি নেতাকর্মীদের মধ্যে। যদিও পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ চলমান। আর এ নিয়ে জেলা কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নেতারা নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন।

জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের একদিন পর মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও সেই কোন্দলের কারনেই মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছিল। স্থগিত হওয়ায় মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা নতুন করে দলকে সংগঠিত করতে মাঠে নেমেছে। নতুন করে সম্মেলনকে ঘিরে একাধিক নেতা মাঠে তৎপর। বর্তমান নেতৃত্বের পরেও তরুণ নেতাদের মধ্যে অনেকে শীর্ষ পদে আসতে কাজ করে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে বিএনপি রাজপথে থাকলেও এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিএনপির নেতাকর্মীরা কোমর বেধেই রাজপথে নামছে। তারা সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামছে। সরকার দলীয় আওয়ামীলীগের রক্তচক্ষু ও মামলা এবং গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিএনপির নেতা-কর্মীদেও কাবু করতে পারেনি।

এদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা যখন দলীয় কোন্দল নিয়ে ব্যস্ত তখন বিএনপি নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে শীর্ষ নেতারা ব্যস্ত হয়ে পড়ায় দিন দিন শক্ত অবস্থান তৈরী হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন