শীতলক্ষা নদী মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। অবৈধ বালুর বল্বগেডের ধাক্কায় বছরে কয়েকবার লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে থাকে। ঘটনার সপ্তাহ পার না হতেই সকল কিছু ফাইলের নীচে ধামাচাপা পড়ে যায়। আইন অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন, মামলা হলেও ১৫ দিন না পেরুতেই লঞ্চ ডুবির ঘটনা সকলে ভুলে যায় আর নিহতের পরিবারের আত্ননাথ কেউ শোনে না বা খবর রাখার প্রয়োজন মনে করে না। লোক দেখানো তদন্ত কমিটি আর চায় না, জনগন চায় এর সঠিক একটি সমাধান।
নারায়ণগঞ্জ তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ২৩ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ শামীম বেপারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মঞ্জুরুল হাফিজ এর কাছে ওই প্রতিবেদন জমা দেন।
ডিসি মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, ‘প্রতিবেদন আমি পেয়েছি। এতে লঞ্চ ডুবির জন্য কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।’
তদন্ত কমিটির প্রধান এডিএম শামীম বেপারী বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি। আমার কমিটির সঙ্গে যারা যারা কাজ করেছে সবাই মিলে একটি চিত্র তুলে ধরেছি। আমরা জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। এখানে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে। সেখানে আমরা তুলে ধরেছি অসম প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। কার আগে কে যাবে না যাবে এটা যেন না হয়। ছোট ছোট লঞ্চের পরিবর্তে যেন বড় নৌযান যেন নামানো হয়। যেহেতু এগুলো সামান্য ধাক্কা লাগলে ডুবে যায়। বিভিন্ন সুপারিশ যুক্ত করে আমরা প্রতিবেদনটি দাখিল করেছি।
প্রসঙ্গত গত ২০ মার্চ দুপুর ২টায় সদর উপজেলার সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ‘এমভি রূসপী-৯’ কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ‘এমএল আফসার উদ্দিন’ লঞ্চ ডুবে যায়। এ ঘটনায় শিশু, নারী সহ ১০জনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। এ ঘটনায় পরদিন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামীম বেপারীকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এক কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন ডিসি।