মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ মঙ্গলবার | ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আড়াইহাজা‌রে গৃহবধূর মৃত‌্যু: ১৬ মাস পর অপমৃত‌্যু থে‌কে হত্যা মামলা, ঘাতক আটক

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ৫:৩১ অপরাহ্ণ

আড়াইহাজা‌রে গৃহবধূর মৃত‌্যু: ১৬ মাস   পর অপমৃত‌্যু থে‌কে হত্যা মামলা, ঘাতক আটক

স্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজা‌রে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ১৬ মাস পর অপমৃত্যু মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার পর গত বুধবার রাতে আড়াইহাজার থানায় এজাহার দায়ের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে একাধিকবার বলা হলেও পুলিশ হত্যা মামলা নেয়নি। মামলা দায়েররের পরব ঘাতক সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বৈলারকান্দি এলাকার নাজমা আক্তার তার মেয়ে জিদনী আক্তার (২৩) হত্যার অভিযোগে আটজনকে আসামি করেছেন।
আসামিরা হলেন—মো. সুমন মিয়া (৩২), তাঁর মা রুপালী বেগম (৫৫), বাবা আব্দুল হান্নান হানু (৬৪), বোন সুমনা আক্তার (২৬) ও সিমা আক্তার (২৪), আত্মীয়া রোকসানা আক্তার (৩৯), সাকিব (১৯) এবং মাইনুল হক (২৮)।
প্রধান আসামি সুমন মিয়া সরকারি সফর আলী কলেজের সাবেক জিএস ও ছাত্রলীগ নেতা।
এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ জুলাই পারিবারিকভাবে জিদনীর সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা ও গরুসহ উপঢৌকন দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে আসামিরা একত্র হয়ে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমন জিদনীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং অন্য আসামিরা এতে সহায়তা করেন। পরে বিষয়টি গোপন রেখে ভোরে তাঁকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পরিবার হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে মামলাটি হত্যা হিসেবে রূপান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি মোঃ আলাউদ্দিন জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নতুন করে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন আসামি আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন