নারায়ণগঞ্জ আমলাপাড়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা নিলুফাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ইসমত আরাকে প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদ সভা করেছে স্কুলের সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্কুল প্রাঙ্গনে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্কুল ছুটির পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এডিসি অধ্যক্ষের রুমে যান। সেখানে ঢুকে তিনি অধ্যক্ষ শীতল চন্দ্র রায়কে বলেন, আপনি এখানে বসেন কেন, বেরিয়ে যান। পরবর্তীতে তর্কের এক পর্যায়ে বেরিয়ে যাওয়ার কারন জানতে চাইলে অধ্যক্ষকে এডিসি বলেন আপনার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ রয়েছে। এসময় তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে।
পরবর্তীতে স্কুলের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডিসির কাছে যান। সেখানে এডিসি ছিলেন। সেখানে ডিসি সকল বিষয় শুনে তাদের গাইডলাইন দেন। সেটা চলমান আছে। এরই মধ্যে এডিসি আবারও অধ্যক্ষকে ফোনে আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেন এবং হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এতে প্রধান শিক্ষক মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এঘটনার প্রতিবাদে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ প্রতিবাদ সভা করে।
এ বিষয়ে কলেজ শাখার সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল সাইফ (ইনচার্জ) বলেছেন, আমাদের দাবী দুটো। একটি হল এডিসি অনৈতিক কোন কাজ করলে আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডিসি অফিস ঘেরাও করবো এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে এই এডিসির পদত্যাগ চাইবো। আর আমাদের বৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শীতল চন্দ্র রায়কে তার স্বপদে দেখতে চাই।
গভর্নিং বডি’র সভাপতি হামিদুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী আমরা চুক্তিভিত্তিক ভাবে তাকে নিয়োগ দিয়েছি। গত ১৫ নভেম্বর তাকে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। এখন আমাদের প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে কে বা কারা এডিসির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তা আমরা জানি না। তিনি জানান, নিয়মমাফিক আমাদের গভর্নিং বডিকে অভিযোগের বিষয়টি অবহিত করতে হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি স্কুলে এসে অধ্যক্ষের সাথে রুঢ় আচরণ করেন, যা অপ্রত্যাশিত।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ তিনি পেতেই পারেন। কিন্তু অভিযোগটা পেয়ে তিনি আমাকে চিঠি দিবেন আমি জবাব দেব। কিন্তু তিনি নিয়মনীতি ভেঙে যেভাবে এসে কাজটি করলেন এটা সঠিক হয়নি। তিনি কমিটিকে অবহিত করবেন আমরা জবাব দেব। কিন্তু তিনি সেটা করেননি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ইসমত আরা’র সাথে কথা বললে তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি তদন্ত করেছেন। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।