সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ সোমবার | ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশৃঙ্খলা করতে চাইলে বরদাস করা হবে না : বিএনপির আইনজীবীদের এড. জুয়েল

বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২ | ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

বিশৃঙ্খলা করতে চাইলে বরদাস করা হবে না :  বিএনপির আইনজীবীদের এড. জুয়েল

নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেছেন, আমরা ১৪০০ আইনজীবীদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। সেই নির্বাচনে ইসি কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ব্যক্তিটায় বিনা স্বার্থে আইনজীবীদের জন্য কোটি কোটি টাকা দিয়েছেন তার নামে এই বিল্ডিং ভবনটা হোক। আইনজীবীরা অকৃতজ্ঞ না।

আইনজীবীরা কৃতজ্ঞতা জানাতে জানে। আমরা তাকে সম্মানিত করেছি। তারপরই ইজিএমে এজেন্ট বাস্তবায়ন করা হয়েছে সেখানে এ বিল্ডিং এর নাম প্রস্তাবনা করা হয়েছিল। সেই সময় সর্বসম্মতিক্রমে সব আইনজীবীরা বলেছিলেন পাস।
আজকে যারা সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন আপনারও তো সেদিন সেখানে বসা ছিলেন। আজকে আপনারা কথা বলছেন কেন কই সেদিন তো আপনারা ইজিএমে কোন কথা বলেননি। আপনারা কি চান না যে আইনজীবীরা তিনতলায় বসুক। আপনারা কি চান না বারে একটা লাইব্রেরি হোক মহিলা আইনজীবীদের জন্য কমন রুম হোক। কেন বৃহস্পতিবার বিল্ডিং এর উদ্বোধন আর আজকে আপনারা বিরোধিতা করছেন।

এমপির আসবেন মন্ত্রীরা আসবেন আমরা তাদের কাছে আমাদের সুখ-দুঃখের কথা বলব। তারা আবার আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। আপনারা কি আইনজীবীদের স্বার্থে কথা বললে নাকি বিরোধিতা করলেন। আপনার তো অনেকবার কমিটিতে ছিলেন কি করতে পেরেছেন।

আজকে পর্যন্ত আপনারা বারের জন্য কিছুই করতে পারেননি। ‌তাহলে কেন আপনারা আইনজীবীদের কে বিভ্রান্ত করাচ্ছেন। আপনাদের উদ্দেশ্যটা কি আপনাদের সেই উদ্দেশ্য সাধারণ আইনজীবীরা জানতে চায়। বিশৃঙ্খলা যদি করতে চান আইনজীবী সমিতিতে কোন বরদাস করা হবে না।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত বার ভবনের নাম নারায়ণগঞ্জ- ৪ আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমান ভবন নাম করণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে তা আপত্তি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনের সামনে দঁাড়িয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল তাদের এই সংবাদ সম্মেলনের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা গুলো বলেন।

তিনি বলেন, গত দুই বছর আগে যখন এই বিল্ডিং এর দরজা ওপেন করে দেওয়া হয় তখন আমি এই বারের প্রেসিডেন্ট ছিলাম এমন মহসিন সাহেব সেক্রেটারি ছিলেন। ১৮ সালে এজিএমে যখন আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম তখন আমি বলেছি আগে আমাদের আইনজীবীরা ঢুকবে এরপর আমার চেয়ার থাকলেও চলবে না থাকলেও চলবে। আমাদের কোন আক্ষেপ নাই।

আজকে যারা বক্তব্য দিয়ে গেলেন বিএনপির বন্ধুরা আপনারা কোথায় বসেন। তাহলে আমাদের চেয়ারটা কোথায়। আমরা তো চেয়ার নেই আমাদের কোন আক্ষেপ নেই। একজন ব্যক্তি টাকা দিয়েছে এ বিল্ডিং টা তৈরি হয়েছে। তখনো আপনারা বাধা দিয়েছিলেন এখনও আপনারা বিরোধীতা করছেন। তখনও আপনারা আইনজীবীদের স্বার্থে কথা বলেননি। আপনারা বলেছিলেন আমাদেরকে এই নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির থেকে বিতাড়িত করবেন যদি আমরা বিল্ডিং না করতে পারি। আরে ভাই এক বছরের মধ্যে আমরা একতলা বিল্ডিং ধার করিয়েছি। আজকে যখন এই বিল্ডিং এর তিনতলার কাজ ধরা হয়েছে বিল্ডিং উদ্বোধনের সময় হয়েছে আপনারা এসে মিথ্যা কথা বলছেন সংবাদ সম্মেলন করছেন। আপনাদের কি লজ্জা করে না।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির পনেরশো আইনজীবীর স্বপ্নের ভার ভবনের সামনে দঁাড়িয়ে আমরা এখন কথা বলছি। আমরা কথা বলছি যে বার ভবনের জন্য আমরা বিগত চারটি বছর ধরে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতি যখন এখানে হস্তান্তর করা হয় তখন এখানে আইনজীবীদের বসার জন্য তেমন কোন জায়গা ছিল না। তখন নারায়ণগঞ্জ- ৪ আসনের সংসদ একেএম শামীম ওসমান আমাদের আইনজীবীদের বসার জন্য ব্যবস্থা করলেন। সেই সময়ে সাংসদ শামীম ওসমানসহ ১৮ জনের নামে জিডি করা হয়েছিল। সেই জিডিতে এড. খোকন সাহা, মাসুদুর রহমান ও আমার নামসহ আরও অনেকের নামই ছিল। আজকে যারা সংবাদ সম্মেলনের নামে মিথ্যা কথা বলে গেলেন আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কথা বলে গেলেন এবং আইনজীবীদের স্বার্থে বিরুদ্ধে কথা বলে গেলেন। একজনের নামও কিন্তু সেদিন সেই জিডিতে ছিল না। কারণ তারা তো আসেই নাই। তারা যদি আইনজীবী হতো তাহলে আসতো।

সেই সময় যখন হয় সেলিম ওসমান একটি বিশাল অংকের টাকা দিয়েছিলেন আর আমরা আইনজীবীরা টাকা দিয়ে একতলা করেছিলাম। পরবর্তীতে সুরুজ আলী সাহেব নিজস্ব অর্থায়নে দোতলা কমপ্লিট করে দিয়েছিলেন। একটা চারতলা বিশিষ্ট বিল্ডিংয়ে মাত্র ১০ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা। আইনজীবীদের বসার জায়গা ঠিকমতন ছিল না। উনি কোনদিন আইনজীবী সমিতির ভবনে আসেননি।

একটি অনুষ্ঠানে মাননীয় আইনমন্ত্রী এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জ বারে। সেই দিন সেলিম ওসমানও এসেছিলেন এবং অন্যান্য এমপিরা এসেছিলেন। তিনি এসে যখন দেখলেন মাত্র দেড়শো স্কোর জায়গার মধ্যে মহিলা আইনজীবী একটি কমন রুম ব্যবহার করে। এবং এক হাজার আইনজীবীদের জন্য ১০ হাজার স্কয়ার ফিটের একটি বিল্ডিং। তখন তিনি বললেন আমি নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির জন্য একটি নতুন বিল্ডিং করে দিতে চায় যদি আইনমন্ত্রী আমাকে অনুমতি দেন। সাথে সাথে আইনমন্ত্রী মহোদয় অনুমতি দিলেন। এক এক করে আজকে পর্যন্ত ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা তিনি দিয়েছেন। সারা বাংলাদেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ একটিমাত্র বার যে বার ব্যক্তির নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা হয়েছে। সারা বাংলাদেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ বার একমাত্র বার দশ হাজার স্কয়ার ফিটের এত বড় বার বিল্ডিং বাংলাদেশের কোনো কোথাও নেই। আমরা চার বছর নিরলস ভাবে কাজ করি এই বিল্ডিংটি ধার করিয়েছি।

এসময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাবেক সভাপতি এড. মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. রবিউল আমিন রনী, জেলা পিপি এড. মনিরুজ্জামান বুলবুল, জিপি এড. মেরিনা বেগম, সিনিয়র আইনজীবী এড. মাসুদুর রউফ, এপিপি এড. সুইটি ইয়াসমিনসহ আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন