ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ ৷ সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মাহাবুবুর রহমান বাবুল ওরফে ( চুম্মা বাবুল) আবারও সমালোচনার ঝরে। গত বছর এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়ে কটুক্তি করায় নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হন। তার রেজ কাটতে না কাটতেই আবারো সমালোচনার কবলে পড়েছে লাইন বাবুল।
জানা যায়, সোনারগাঁ ৩ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এমপি খোকার ডিওলেটার নকল করে শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়ে বারদী হাই স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে বারদী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্বাচিত দাতা সদস্য মোঃ সাঈদ সরকার বাদী হয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ সোনারগাঁ আদালতে ৮ নভেম্বর দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯০০ সালে বারদী হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠা হয়। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১২জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে। পরে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় কোন প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড নীতি মালা ২০০৯ এর ২৩(১) বিধি অনুসারে প্রিজাইডিং অফিসার সকল প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন। প্রিজাইডিং অফিসার বাদী মোঃ সাইদ সরকারকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
বারদী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মোস্তফা জহিরুল হক, জসিউর রহমান, মোঃ ফারুক সরকার নাম সহ নির্বাচনী ফলাফল বোর্ডে প্রেরন করেন এদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি মনোনীত করার জন্য।
মাহবুবুর রহমান বাবুল সোনারগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার ডিও লেটার নকল করে বোর্ডে প্রেরণ করে নিজে সভাপতি হন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা মুঠোফোনে ফোকাস নিউজ এজেন্সীকে জানান, অধ্যক্ষ যে তিনজনের নাম বোর্ডে প্রেরণ করেছে সে বিষয়ে অবগত আছি। কিন্তু বাবুল আমার ডিও লেটার ও স্বাক্ষর জাল করে বোর্ডে পাঠিয়েছে বলে শুনেছি। আমি স্কুলের কোন ডিও লেটারে স্বাক্ষর করিনি।
মোঃ সাঈদ সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মোঃ জাহিদুল ইসলাম মুক্তা, সহকারী ছিলেন আবু রায়হান।
এবিষয়ে বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মাহাবুবুর রহমান বাবুল এর সাথে মুঠোফোন কথা হলে তিনি জানান, আমাকে এমপি সাব কোন ডিউ লেটার দেয়নি। আমাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখির বিষয়ে আমি অবগত না। তবে তিনি বিষয়টি সম্পন্ন অস্বীকার করে বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। এ বলে ফোন রেখে দেন এবং পরবর্তী যোগাযোগ করবেন বলে জানান।
মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার পিএস পরিচয় দিয়ে রিসিভ করে বলেন স্যার একটু কাজে ব্যস্ত আমি তার কাছে ফোনটি দিচ্ছি বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।