নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে এক তরুণী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ গোলাকান্দাইলের নাগেরবাগ এলাকার মনসুর হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ তরুণীর নাম সোনিয়া আক্তার (২০)। তিনি একই এলাকার মনির হোসেনের মেয়ে। তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এমডব্লিউ কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। গতকাল তিনি তাঁর বাড়ির পাশের আত্মীয়ের বাড়িতে পড়তে এসে এ ঘটনার শিকার হন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে আহত সোনিয়ার মামাতো ভাই জাহিদ হাসান প্রথম আলোকে জানান, সোনিয়ার চোখে গুলি লেগেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের অস্ত্রোপচারকক্ষে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর চোখ ফেলে দিতে হবে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনিয়ার ফুপাতো ভাই গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহিদ হাসানের সঙ্গে তাঁর এলাকার মো. রাজন (৩৫), মুড়াপাড়ার মাছিমপুর এলাকার শওকত আলী ওরফে বন্দুক রিয়াজ (২২) ও মো. বাবুর (২৫) বিরোধ চলছিল। এর জেরে গতকাল রাতে ওই তিন তরুণ জাহিদকে খুঁজতে তাঁর বাড়িতে যান। এ সময় জাহিদের মা জাহিদকে বাঁচাতে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এ সময় শওকত আলী ওই কক্ষের জানালা দিয়ে গুলি করলে জানালার কাচ ভেদ করে একটি গুলি এসে সোনিয়ার চোখে লাগে।
শওকত আলী মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাছিমপুর এলাকার লতিফুর রহমানের ছেলে। তিনি রূপগঞ্জ পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। হত্যা, অস্ত্র মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা আছে। তাঁর ভাই মো. আলী হত্যা, অস্ত্র মামলাসহ অন্তত পাঁচটি মামলার আসামি।
মুড়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, রিয়াজ ও বাবু মুড়াপাড়া ব্রাহ্মগাঁও এলাকায় মাদকের মূল নিয়ন্ত্রক। ৬ নভেম্বর মুড়াপাড়া ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শাহরিয়ার পান্নার দেহরক্ষীর বন্দুক থেকে ছোড়া গুলিতে আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। ওই হত্যা মামলার আসামি রিয়াজ। হত্যার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে এসে এলাকায় আবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন তিনি।
জাহিদ হাসানের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গতকাল তাঁর বাড়িতে এসে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়েন। এতে সোনিয়া গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর চিকিৎসা শেষে এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে শওকত ও রাজনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।