সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিদ্ধিরগঞ্জে সালু হাজী রোডের দারুস সালেহ জামে মসজিদ নিয়ে ফের ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন মেন্সওয়াল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কথিত বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান ও তার ভাই শহিদুল্লাহ। এনিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়াকফকরা জমির মধ্যে নির্মিত এ মসজিদটি ভেঙে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের চেষ্টা করেছিলেন আব্দুল হান্নান ও তার ভাই শহিদুল্লাদ। তখন এলাকাবাসী প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করলে তিনি পিছু হঠেন। সম্প্রতি এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদের পূন:নির্মান কাজ শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ফলে স্থানীয়দের মাঝে উৎসাহ তৈরি হয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, তিন দশক আগে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সালু হাজী রোডের মাথায় মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন হাজী সালাউদ্দিন। পরে তিনি মসজিদের জন্য ৭ শতাংশ জমি ওয়াকফ করে দেন। কিন্তু মসজিদের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করার চেষ্ঠা করেন আব্দুল হান্নানগংরা। তারা এলাকাবাসীকে ভুল বুঝিয়ে পূন:নির্মাণের কথা বলে মসজিদটি ভেঙে ফেলেন। পরে যখন জানা জানি হয় যে, তারা বহুতল ভবন নির্মাণ করবেন তখন প্রতিবাদ গড়ে তুলা হয়। মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করলে নাসেক ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. ইকবাল হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন। তাদের হস্তক্ষেপে মসজিদের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করতে দেওয়া হবেনা মর্মে সিদ্ধান্ত হলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদটি পূন:নির্মাণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মসজিদ পুন:নির্মাণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেন্সওয়াল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কথিত বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নানের কোন ভূমিকা নেই। তবু তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণ করছেন বলে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি নাকি মসজিদের জমি ও অর্থ দিচ্ছেন। যিনি মার্কেট নির্মাণ করার জন্য মসজিদটি ভেঙে ফেলেছিলেন, সেই তিনি মসজিদের জমি ও অর্থ দিচ্ছেন এমন প্রচারণায় সন্দেহ ও ষড়যন্ত্রের গন্ধ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এবিষয়ে আব্দুল হান্নান জানান, মসজিদ ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তা সঠিক। তবে ভবনের দ্বিতীয় তলাটি মসজিদ হিসেবেই ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এলাকার কিছু লোক না বোঝে আন্দোলন করে। মসজিদ আল্লাহর ঘর নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র করার প্রশ্নই উঠেনা। মসজিদ আগের জায়গাতেই হবে।