ফাহাদ স্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের আলোচিত কুখ্যাত ডাকাত ও শীর্ষ সন্ত্রাস সাকিব প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলের গাঁও এ ঘটনা ঘটে।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাতে মঙ্গলের গাও সাকিব ও তার বাহিনী ডাকাতির প্রস্তুতির সময় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়।
এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায় হামলাকারীরা। তার দোনো পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়। পায়ের গোড়ালি বড় ধরনের ক্ষতস্থান দেখা যায়।
পরে পুলিশ খবর পেয়ে সাকিব কে
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, *‘সাকিবের , হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গুরুতর জখম রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা না গেলে কিছু বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ ও আশপাশের থানায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনে এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন। এলাকায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত সাকিব ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সাকিব আহত হওয়ার খবর শুনেছি। কিন্তু ওর গ্রুপের অন্যরা এখনো সক্রিয়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সামরুল ইসলাম বলেন, সাকিব নামের একজনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। তিনি একাধিক মামলার আসামি ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপ এ হামলা চালিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সাকিব পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
হামলার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাকিব সুস্থ হলে তার বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।