সিদ্ধিরগঞ্জে একের পর এক ঘটনায় পত্রিকার শিরোনাম হলেও কোন ভাবেই থামনো যাচ্ছে না ডিবি পুলিশের সোর্স নজরুল ওরফে তোতলা নজরুলকে। তার নামের উপরেই সিদ্ধিরগঞ্জে চলছে ২৫টি মাদকের ও ৫ টি জুয়ার স্পট। ডিবি পুলিশের সোর্স নজরুল ওরফে তোতলা নজরুলের নিয়ন্ত্রেই রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া মহল্লা।
জানা গেছে, নজরুলের কথা মতো কাজ করলেই কোন প্রকার হয়রানি বা সমস্যায় পরতে হয় না কাউকে। তার কথার অবাধ্য হলেই মাদক দিয়ে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয় মানুষকে। তবে সম্প্রতি সোর্স নজরুলকে ডিবি পুলিশের একটি কালো হাইস গাড়ি নিয়ে ডিবি পুলিশসহ সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় আলিফ রেস্তোরার সামনে, পাগলা বাড়ি মোড়, পাগলা বাড়ি চৌরাস্থাসহ বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে। প্রকাশ্যেই ডিবি পুলিশের কর্মকর্তাদের সাথে রাস্থার পাশে গাড়ি থামিয়ে সাধারণ মানুষকে মাদকের নামে সার্চ করে হয়রানি করছে। নজরুলের এমন কর্মকান্ডে সিদ্ধিরগঞ্জের সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, সোর্স নজরুল ওরফে তোতলা নজরুলের সিদ্ধিরগঞ্জে এক বিশাল বাহিনী রয়েছে। যারা মাদক, জুয়ার স্পট, অনৈতিক কর্মকান্ড, ছিনতাই, ডাকাতিসহ একাধিক অপরাধে জড়িত রয়েছে। তোতলা নজরুলের একান্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হলেন মাদক ব্যবসায়ী বকুল ও তার স্ত্রী সোর্স রত্না। বাকি অন্য সদস্যরা হলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত ডাকাতি, চাঁদাবাজী মামলার চিহ্নিত আসামী ও মাদক ব্যবসায়ী ইকবাল, রতন ওরফে কাইল্লা রতন, ফরহাদ ওরফে ফেন্সি ফরহাদ, সোর্স আলামিন, অয়ন, চান্দু ও তার স্ত্রী সুমী। তারা সংঘবদ্ধভাবে মদক কেনাবেচাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পরেছেন। বর্তমানে এখন নতুন কৌশলে তারা প্রকাশ্যে মাঠে নেমে পড়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, নজরুল ওরফে তোতলা নজরুল ডিবি পুলিশের নামে লাখ লাখ টাকা মাসে চাঁদাবাজি করছে। মাদক ব্যবসায়ী বকুলের মাদক ব্যবসার সেল্টারদাতা নজরুল ওরফে সোর্স নজরুল। আর বকুলের স্ত্রী রত্না সুন্দরী হওয়ায় তাকে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করান অনৈতিক কর্মকান্ডের স্পট। জানা যায়, বড় বড় ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে নজরুল ওরফে তোতলা নজরুল রত্নাকে দিয়ে প্রমের জালে ফাঁসিয়ে বাসায় এনে বিভিন্ন অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে ব্ল্যাক মেইল করে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন নজরুল। পরে দাবীকৃত টাকা দিতে না পারলে চলে নির্যাতন ও মাদক দিয়ে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতারের ভয় দেখান এই নজরুল। এভাবে রত্নার জালে পরে সর্বশান্ত হয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ীর স্ত্রী জানান, নজরুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি আমরা। নজরুল কিছুদিন পূর্বে আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। কিসের টাকা জানতে চাইলে আমার স্বামীকে মাদক ব্যবসায়ী বলে ডিবি পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এই নজরুল। পরবর্তীতে বিশ হাজার টাকা নিয়ে আমার স্বামীকে ছেড়ে দেয় নজরুল। এ কথা যেনো কাউকে না বলি বললে আমার স্বামীকে পরবর্র্তীতে গ্রেফতার করানোর হুমকিও দিয়েছেন নজরুল।
এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জে দিনদিন মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফোন করলেই সঠিক যায়গায় পৌছে যায় মাদক। মাদক বিক্রি ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে নজরুল।
সোর্স নজরুল ওরফে তোতলা নজরুল তার বাহিনী দিয়ে দিন-রাত বীরদর্পে ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ ভিবিন্ন মাদকের ব্যবসা ও জুয়ার স্পট চালাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সন্ধ্যা হলেই সিদ্ধিরগঞ্জের মজিববাগ, মিজমিজি পাগলা বাড়ি, টি.সি রোড মোল্লা বাড়ির পাশে, বাতান পাড়া, হিরাঝিল, নতুন মহল্লা বালুর মাঠে, সি.আই খোলা কাঠেরপুল, মিজমিজি কেন্দ্রীয় বড় কবরস্থান রাস্তা, শিমরাইলসহ অসংখ্য স্পটে চলছে তাদের এই রমরমা মাদক ব্যবসা।
তাদের এই মাদক ব্যবসায় বাধা দিলেই সেই ব্যক্তিকে নিয়ে চলে ষড়যন্ত্র। কখনো ডিবি কখনো পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের হুমকি আবার কখনো মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের নিস্ক্রীয়তায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীরা। এই সকল অপরাধীরা প্রকাশ্যে বিচরণ করলেও রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ প্রশাসন। এদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের হাত থেকে বাচঁতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে নারায়নগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) নাজমুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এসপি স্যারকে বিষয়টি জানাবো। তবে যাচাই বাছাই করে দেখবো জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে যেই হোক ছাড় দেওয়া হবে না।