সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন সময়েই নানা কর্মকান্ডে বিতর্কিত একাধিক অভিযোগ ও মামলার আসামি মানিক মাষ্টার সেচ্ছাসেবক লীগের থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে কোন পদে না থেকে নেতৃত্ব ছাড়াই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হতে বিভিন্ন দফতরে ইতিমধ্যে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।
এ নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জসহ পুরো আদমজী এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন কেন্দ্রীয় নেতারা টাকা পেলেই যে কোন ব্যক্তিকেই পদ দিয়ে দেন। এখন আর ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ান করা হয় না।
এদিকে জানা গেছে বিতর্কিত এই মানিক মাষ্টার সুমিলপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক পদে রয়েছেন। তার গুরু দূর্নীতি মামলার আসামি মতিউর রহমান মতি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি। মতির একান্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হলেন এই মানিক মাষ্টার।
ইতোমধ্যে মানিক মাষ্টার থানা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নিতে বিভিন্ন দফতরে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। একাধিক স্থানে ব্যানার ফেস্টুন টানিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন ভাবে ইমপ্রেস করার চেষ্টাও করছেন এই মানিক মাষ্টার। ফেসবুকে চলছে তার প্রচারণা। তার গুরু মতিউর রহমান মতি শিষ্য মানিক মাষ্টারের সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ নিতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।
তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি মানিক মাষ্টার সেচ্ছাসেবক লীগের কোন মিটিং মিছিলে কখনো অংশ গ্রহন করেন নি। সেচ্ছাসেবক লীগের থানা ও ওয়ার্ডের কোন স্থানেই নাম নেই মানিক মাষ্টারের। সে কিভাবে থানা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হতে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন।
মানিক মাষ্টার সুমিলপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও তাকে কখনো যুবলীগের মিছিল মিটিং করতে দেখিনি।
কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সিদ্ধিরগঞ্জের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন যারা আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ দলের দু:সময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তাদেরকে মূল্যায়ান করতে হবে। যারা ত্যাগী কর্মী তাদেরকে মূল্যায়ন না করলে সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতি পথ হারাবে বলে জানান তারা।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুমিলপাড়া এলাকার এক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, মানিক মাষ্টার মূলত একজন লজিং মাষ্টার ছিলেন। মতিউর রহমান মতি কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মানিকের ভাগ্যের চাকা খুলে যায়। মারামারি, জমি দখল, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ইপিজেডের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ অসংখ্য অপকর্মে জড়িয়ে যান এই মানিক মাষ্টার।
মতির হাত ধরেই রাজনীতিতে প্রথম নাম লেখান মানিক। বাগিয়ে নেন সুমিলপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক পদ। এরপর থেকেই মানিক মাষ্টারকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন সে কোটি কোটি টাকার মালিক। টাকার পরিমান বেশি হওয়ায় মানুষকে কোন প্রকার তোয়াক্কা করে না মানিক মাষ্টার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা জানান, মানিকের মূল শক্তিই হচ্ছে কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি। মতির হাত ধরেই মানিক আজ শত শত কোটি টাকার মালিক। গুরুর সাথে তাল মিলিয়ে শিষ্য মানিক মাষ্টার করেছেন আলিসান বাড়ি। মানিক মূলত মতির একান্ত সহযোগী এবং ক্যাশিয়ার।
মতির সব কিছুই এখন নিয়ন্ত্রণ করেন মানিক মাষ্টার। মানিক মাষ্টারকে থানা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক করতে মতি কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছেও তদবীর করছেন। তিনি আরও জানান শুনেছি যতো টাকাই লাগেনা কেনো যে কোন কিছুর বিনিময়ে মানিক মাষ্টারকে এই পদ নিয়ে দিবেন কাউন্সিলর মতি।
এদিকে কাউন্সিলর মতির এসব কর্মকান্ডে সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন মতি টাকা দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতাকে কিনে নিয়েছেন। মতি যখন যা বলে তখন তাই করেন থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ ওই নেতা। শীর্ষ ওই নেতাকে হাত করেই আদমজী ইপিজেডসহ বিভিন্ন সেক্টরকে জিম্মি করে রেখেছেন কাউন্সিলর মতি।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, সেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন ও মানিক মাষ্টারের থানা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংঙ্কা রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করলে সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে কোন্দলের সৃষ্টি হবে। নেতা কর্মীদের মাঝে কোন্দল সৃষ্টি হলে দল ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে ধারনা করছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতারা।
এদিকে গুরু কাউন্সিলর মতি ও শিষ্য মানিক মাষ্টারের এমন কর্মকান্ডের পর মুখ খুলতে শুরু করেছেন নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
তারা বলছেন দূর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, অন্যের জমি দখল করে প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে গত ২২ ডিসেম্বর কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক চার্জশিট দাখিল করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এর পর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মতি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। তাদের এই নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্তি চায় তৃনমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।