চলতি বছরের শীত মৌসুমে এবার শাক উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কৃষকরা। শাক চাষ করে প্রত্যেক কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি, তারা বেশ খুশি। আবহাওয়া ভালো থাকায় সব রকমের শাক ফলন ভালো হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন বলে জানান কৃষকরা। তাইতো কনকনে শীত উপেক্ষা করেই প্রতিদিন সকালে ক্ষেতের কাজে ব্যস্ত হয়ে যান কৃষকরা। অনেকে শাক তুলছেন, আবার কেউবা আগাছা পরিষ্কার করছেন
জালকুড়ি এলাকার কৃষক আজগর আলীর জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত তিনি। সারাবছর বিভিন্ন শাক-সবজি চাষাবাদ করলেও শীতের সময়ে তিনি লালশাক ও পালংশাক চাষ করেন।
এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এই সময়টায় সব শাকেরই চাহিদা থাকে তবে এদুটোর বেশি থাকায় চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। তার জমিটিতে লালশাক পালংশাক চাষ করতে প্রায় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন ২৫-৩০ হাজার টাকায় তার ক্ষেতের শাক বিক্রি করতে পারবেন।
মো. রহমান নামে আরেক কৃষক জানান, তিনি এবার তার দুই বিঘা জমির দেড় বিঘা জমিতেই মুলা চাষ করেছেন। এ সবজি চাষ করতে তার মোট ১৮ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন চাষ করে দ্বিগুন লাভবান হবে।
নারায়ণগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জে বর্তমানে ৫৬৩ হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪০ হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষাবাদ করা হয়।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দালানকোঠা ও নানান প্রতিষ্ঠান তৈরি হওয়াতে দিন দিন কৃষিজমির পরিমঠু কমে যাচ্ছে। তবে যেটুকু কৃষিজমি রয়েছে ওই জমিতেই বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করছেন কৃষকরা। এখানে ক্ষেত খামারগুলোতে লাল শাক, পালংশাক, পুঁইশাক, লাউশাক, পাটশাক, কলমি শাক, নাফাশাক, মুলাশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষ হয়ে থাকে। চাষাবাদ হওয়া এসব শাক-সবজি আশপাশের মানুষজনের চাহিদা মিটিলেও বাধ যান না দূর-দূরান্তের এলাকাবাসী।
এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় শাক এর ফলন পূর্বেও তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। ফলে এবার কৃষকরা শাক উৎপাদন করে লাভবার হচ্ছেন। যা তাদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করবে।
নারায়ণগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মো. তাজুল ইসলাম জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে কৃষিজমিতে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি চাষাবাদ হয়। বিশেষ করে শাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন রয়েছে। আমরা সবসময় শাকসবজি চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে থাকি।
এছাড়া রোগবালাইমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন ও স্বল্প পরিশ্রমে বেশি ফলন পাওয়ার জন্যে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেই আমরা। এছাড়া কৃষকদের জন্য সরকার থেকে কোনো অনুদান পেলে আমরা তা কৃষকদের মাঝে বন্টন করে থাকি।