সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি, কিশোরগ্যাং লিডার ও হত্যাসহ কয়েকটি মামলার আসামী টাইগার ফারুক ওরফে চিকনা ফারুকসহ ৬ সহযোগিকে কারাগারে পাঠিয়েছে নারায়ণগঞ্জ আদালত।
গতকাল রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মহসেন’র আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। চিকনা ফারুকের ৬’সহযোগি হচ্ছে-ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদকসহ একাধকি মামলার আসামি মোঃ জসিম হোসেন ওরফে ইয়াবা জসিম (৩৮), কিশোর গ্যাং ও হত্যা মামলার আসামি আরাফাত রহমান বাবু ওরফে ফেন্সি বাবু (৩০), মাদক মামলার আসামি মিলন হোসেন (৩০), ছিনতাইকারী সোহেল (৩২), মোঃ শরীফ হোসেন (৩০) ও মোঃ সিফাত হোসেন (২৮)।
নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলামের কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলাও আসামী তারা প্রত্যেকে। এই মামলায় গতকাল রোববার স্থায়ী জামিনের জন্য আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত শুনানী শেষে আসামীদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরআগে আসামীরা উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
মাদক ব্যবসায়ি ও সন্ত্রাসী টাইগার ফারুক এর ১০’সহযোগি বিভিন্ন সময়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ পুলিশ এবং র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। চিকনা ফারুক নিজেও হত্যা মামলায় একবার ও ডাকাতি মামলায় একবার গ্রেফতার হয়ে জেল খাটে। জামিনে বেরিয়ে শুরু করে আবার তার অপকর্ম। তার বাহিনীর অত্যাচারের এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।
সবশেষ গত ২৪’আগষ্ট সন্ধ্যায় মিজমিজি তেরা মার্কেট এলাকায় নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব আনোয়ার ইসলামের নিজ বাড়িতে অবস্থিত কার্যালয়ে মাদক সিন্ডিকেটর অন্যতম হোতা টাইগার ফারুকের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুইশত সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
এসময় সন্ত্রাসীরা কাউন্সিলরের বাড়িতে তান্ডব চালায় এবং কাউন্সিলরের লোকজনকে মারধর করে। এতে এলাকায় আতংকের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় ২৫’আগস্ট সকালে নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের অফিস সহকারী আবিদ হাসান রাকিব বাদী হয়ে চিকনা ফারুককে প্রধান আসামী করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা (যার নং-৪৫) দায়ের করেন। এদিকে কাউন্সিলর কার্যালয়ের হামলার পর টাইগার ফারুক ও তার বাহিনীকে গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে।
এলাকাবাসী জানায়, টাইগার ফারুকের ভাই জসিম এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী। ছিনতাই করতে গিয়ে সে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যায়। পরে জামিনে বেরিয়ে ফারুকের শেল্টারের আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে জসিম। টাইগার ফারুকের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রাতের আধারে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা করছে বীরদর্পে। শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টার থাকায় সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস করে না।