ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধি
সোনারগাঁয়ে মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ঝুঁপড়ি ঘরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অবাধে চলছে জ্বালানি তেলের কেনাবেচা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পুলিশের চোখের সামনে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ দোকানিরা।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর হতে মেঘনা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ঝুঁপড়ি ঘরে বিশেষ কৌশলে এ ব্যবসা চলছে। বিশেষ করে মদনপুর থেকে পিরোজপুর মহাসড়কের দু’পাশে প্রকাশ্যে তেলের ড্রাম ও পাইপ প্রদর্শন করে অবৈধভাবে তেল কেনাবেচা করা হয়।
তেলবাহী ট্যাংকলরি ও বিভিন্ন পণ্যবাহী চলাচলকারী অধিকাংশ ট্রাক চালকরা ঝুঁপড়ি ঘরে তেল কেনাবেচা করে। বিশেষ করে ঝুঁপড়ি ঘরের সামনে খালি তেলের ড্রাম দেখলেই থামিয়ে দেয়া হয় ট্যাংকলরি, ট্রাক ও কাভার্টভ্যান। এসব যানবাহনের অসৎ চালকরা প্রায় ২০-২৫ লিটার করে জ্বালানি তেল বিক্রি করে।
দিনে রাতে এ তেল বিক্রি হলেও নজরে পড়ে না প্রশাসনের। এতে বিভিন্ন তেল কোম্পানির এজেন্সি ও মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষ কৌশলে এ তেল কেনাবেচা করলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে জানায় এলাকাবাসী। এ কারণে মহাসড়কে লাখ লাখ টাকার এ চোরাই তেলের ব্যবসা এখন রমরমা। কম দামে কেনা এ তেল ঝুঁপড়ি ঘরের মালিক ও অসৎ ব্যবসায়ীরা এলাকার স্থানীয় বাজারসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তৃতীয় হাতবদলে এ তেল বেশি মূল্যে বিক্রি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝুঁপড়ি ঘরে তেল কেনাবেচা নতুন কিছু নয়। তবে তেল এজেন্সি ও ট্রাক মালিকরা কঠোর ব্যবস্থা নিলে এ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের প্রয়োজন না হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থারও ব্যবস্থা নেয়ার তেমন প্রয়োজন নেই। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মোটরসাইকেল আরোহী মুক্তার, রাজিবসহ মান্নান জানান, তেলের পাম্প দূরে তাই খোলা বাজার থেকে আমরা তেল কিনে থাকি। এভাবে জ্বালানি তেল কেনাবেচা চলতে থাকলে যেকোনো সময়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করে স্থানীয়রা।