সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে ডিবি পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী নাহিদ ও সীমান্ত। তাদের এই অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসী জানান এই চক্রটি প্রথমে এলাকার ব্যবসায়ী ও অর্থ বিত্তের মালিক ব্যাক্তিদের টার্গেট করে। পরে তাদেরকে মাদক ব্যবসায়ী আক্ষা দিয়ে ডিবি পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। তাদের দাবী লোক লজ্জার ভয়ে তারা এসব ঘটনা কাউকে প্রকাশও করেন না।
এদিকে বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জে সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের আরেক নাম ডিবি পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী নাহিদ ও সীমান্ত।
এই চক্রটি মিজমিজি বাতান পাড়া এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে। তবে কয়েকটি ঘটনায় মিজমিজি বাতান এলাকাটি বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে।
এই ভয়ঙ্কর অপরাধীরা বিশাল এক সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। যার পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করেন নাহিদ ও সীমান্ত। মূলত তাদের শেল্টারেই বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে দিনের পর দিন। তারা সংঘবদ্ধভাবে নানা অপরাধে জড়িত রয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আর্শিবাদপুষ্ট হয়ে থেকে যান ঘটনার আড়ালে। তাই তাদের নাম মানুষের মুখে মুখে থাকলেও আলোচনায় খুব কমই আসেন।
অভিযোগ উঠেছে বর্তমানে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অবৈধ ব্যবসা, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরিসহ অসামাজিক কার্যকলাপ এবং অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রন করছেন নাহিদ ও সীমান্ত বাহিনী। নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের সোর্স পরিচয়ে তাদের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কখনো চাঁদা আদায় করছেন আবার কখনো ডিবি পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অর্থ। তাদের ভয়ে কেউ এসব ঘটনা প্রকাশ না করায় অন্তরালেই থেকে যায় অপরাধী এই চক্রটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যাক্তি জানান, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেই মিজমিজি বাতান এলাকাসহ অলিগলি চলে আসে তাদের নিয়ন্ত্রণে। নাহিদ ও সীমান্তের সিন্ডিকেটে রয়েছে মাদক সরবরাহকারী ও ছিনতাইকারীর সদস্যরা। এসব ছিনতাইকারীরা মূলত টার্গেট করে গার্মেন্টস কর্মী ও ব্যবসায়ীদের। সুযোগ পেলেই হাতিয়ে নেন সর্বস্ব। কখনো কখনো ছিনতাইয়ে বাঁধা দিলে তাদের হাতে প্রাণও দিতে হয়।
তিনি আরও জানান, পুলিশ মাঝে মধ্যে টহল দেয়। কিন্তু তারা পুলিশের গাড়ি আগে থেকেই চিনে ফেলেন। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে রয়েছে তাদের সোর্স। যার ফলে পুলিশের উপস্থিতি আগে থেকেই টের পেয়ে যান।
এদিকে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় ফের আলোচনায় এসেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা। গত মঙ্গলবার ভোরে প্রতিদিনের ন্যায় কাচামালের ক্রয়ের জন্য রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর উদ্দেশ্য বাসা থেকে বের হন সবজি বিক্রেতা আক্কাছ সিকদার। পরবর্তীতে ছিনতাই কারীদল সবজী বিক্রেতা আক্কাছ সিকদারের পথরোধ করে। এসময় ছিনতাই কারীরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে তিনি বাধা প্রদান করলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে নিহতের ভাই ইব্রাহিম সিকদার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিজমিজি বাদানপাড়া এলাকার আব্দুল বাতেনের ছেলে মোঃ জোবায়ের হোসেন(২২) ও জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোঃ মৃদুল ওরফে মিদুল (২০) কে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
এলাকাবাসী বলছেন গ্রেফতার আসামিরা নাহিদ ও সীমান্ত গ্রুপের সদস্য। তারা এই চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানান।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত চার জনের মধ্যে দু’জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কেউ অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।