সোমবার, ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ সোমবার | ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে নারী-পুরুষসহ আটক ২৬

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২:৩৭ অপরাহ্ণ

হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে নারী-পুরুষসহ আটক ২৬

 

​নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে একটি আবাসিক হোটেলে ভাঙচুর চালিয়েছেন এলাকাবাসী। এ সময় হোটেল থেকে ১২ নারী ও ১৪ পুরুষকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিমরাইল এলাকায় অবস্থিত হোটেল শীতলক্ষ্যা আবাসিকে (সাবেক সাজেদা হাসপাতাল) এ ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোটেলটিতে অবৈধভাবে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে ৪০ থেকে ৫০ জন এলাকাবাসী সেখানে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ হাতেনাতে ধরেন। পরে খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এলাকাবাসী আটক ১২ নারী ও ১৪ পুরুষকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা হোটেলের স্টাফদের মারধর করে বলেও জানা গেছে।

​অভিযানের পর আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসা হলে থানার গেটে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এক পতিতা নারী। তিনি উচ্চস্বরে আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা তো পেটের দায়ে এসব করি, আমাদের কাছ থেকে কেন মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিল? আমরা কোনো অপরাধ করে থাকলে আমাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে কেন আমাদের মারধর করা হলো আর টাকা-পয়সা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হলো? তারা তো ডাকাতের মতো আচরণ করেছে! আমার ব্যাগ থেকে টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ফেরত চাইলে আবারও মারধর করা হয়। এখন আমাদের এই জিনিসগুলো কে ফেরত দেবে?”

​তবে ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, তারা আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কার্যকলাপ কেবল হাতেনাতে ধরেছিলেন। একপর্যায়ে উৎসুক বহিরাগতরা ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। বহিরাগতরা যদি সেখানে কোনো ভাঙচুর চালিয়ে থাকে কিংবা কোনো নারীর ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে থাকে, সে বিষয়ে এলাকাবাসী কিছুই জানেন না। বহিরাগতরাই এই কাজগুলো করেছে বলে তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

​এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছুদিন আগেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল মো. শামীম হোসাইন-এর নেতৃত্বে একই হোটেলে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযানের পরও কীভাবে আবার সেখানে একই ধরনের কার্যক্রম চালু রইল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

​এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১২ নারী ও ১৪ পুরুষকে থানায় নিয়ে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন