আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ২০ নম্বর কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নে বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের নতুন হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন দেশের খ্যাতিমান লেখক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক মো. বাবুল ভূঁইয়া। ঐতিহ্যবাহী কাইতলা ভূঁইয়া বংশের সপ্তম প্রজন্মের এই যোগ্য উত্তরসূরি গত শনিবার নিজ পিতা ও পিতামহের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। মাঠে নেমেই তিনি কাইতলা বাজারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন।
প্রচারের শুরুতেই এক রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এই গুণী সাংবাদিক। কাইতলা দক্ষিণে প্রচলিত কাদা-ছোড়াছুড়ি ও হিংসাত্মক রাজনীতির সংস্কৃতিকে পাশ কাটিয়ে তিনি মাঠে থাকা অন্য সকল সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করে খোলা মনে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কাইতলার নির্বাচনী ইতিহাসে সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে এমন সম্মান জানানোর ঘটনা এটিই প্রথম, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর ইতিবাচক দাগ কেটেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি এমন উদারতা ও শুভকামনা প্রমাণ করে যে তিনি প্রতিহিংসামুক্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ একটি নতুন কাইতলা গড়ার জন্য প্রস্তুত।
দীর্ঘদিনের নিঃস্বার্থ মানবিক কর্মকাণ্ড ও জোরালো জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। কাইতলা প্রধান বাজার, গোয়ালী গ্রামসহ ইউনিয়নের প্রতিটি অলিগলি এবং মোড়ে মোড়ে ঘুরে পথচারী, ব্যবসায়ী, তরুণ ও প্রবীণদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং মতবিনিময় করছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার পরিষদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক দেউয়ান মসিউর রহমান, মাওলানা নজরুল ইসলাম আশেকী, ক্রাইম নিউজের সিনিয়র সাংবাদিক মো. শহিদুল ইসলাম, ব্যাপরী বাবুল, দুলাল মিয়া, সেন্টু মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
দেশজুড়ে একজন প্রখ্যাত কলামিস্ট ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বাবুল ভূঁইয়ার সুপরিচিতি রয়েছে। তার রচিত ‘ঠিকানা বিহীন জীবন’, ‘অনুভূতি পালিয়েছে’, ‘ভালোবাসার নীল কষ্ট (প্রথম খণ্ড)’ এবং ‘মা এখনও কাঁদেন’ এর মতো আলোচিত গ্রন্থগুলো দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। শুধু লেখনী বা সাংবাদিকতাই নয়, ‘জনতার মঞ্চ ফাউন্ডেশন’ নামক অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশব্যাপী মানবসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনাকালীন সংকট, পবিত্র রমজানে পথচারীদের মাঝে সেহরি ও ইফতার বিতরণ, সিলেটের বন্যাকবলিত অঞ্চলসহ ফেনী ও নোয়াখালীর দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তা এবং প্রতি বছর শীতকালে অসহায় মানুষ ও এতিমদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
কাইতলা গ্রামের নামকরণের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত আকবর কাই ভূঁইয়া ও শমসের কাই ভূঁইয়ার ঐতিহাসিক পরিবারের সন্তান বাবুল ভূঁইয়া বলেন, ‘ক্ষমতা অল্প দিনের, সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, আমি সম্পর্কে বিশ্বাসী।’ সততা, দেশপ্রেম, ঐতিহাসিক পারিবারিক ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের অকৃত্রিম মানবসেবাকে সম্বল করে মো. বাবুল ভূঁইয়াকে ঘিরে কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নে এখন পরিবর্তনের প্রবল জোয়ার বইছে। এলাকাবাসীর জোরালো বিশ্বাস, তিনি নির্বাচিত হলে অবহেলিত কাইতলার কাঙ্ক্ষিত সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হবে এবং জনগণের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।