নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ভাতিজার স্ত্রী দুই সন্তানের জননী হ্যাপি আক্তার (৩০) এর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনার প্রায় তিন মাস পর প্রবাসি স্বামী মাহাবুবু বাড়ীতে এসে ৯ অক্টোবর তার স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলার ঘটনায় এলাকাবাসির মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, নিহতের সাথে তার প্রবাসি স্বামীর প্রায় সময় মোবাইল ফোনে ঝগড়া ঝাটি হতো। কিন্তু চাচা চাচি এ ব্যাপারে প্ররোচনা দিতে পারে তা ভিত্তিহীন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নিহতের স্বামী মাহাবুব এর আপন চাচা জামাল নিহতকে কূপ্রস্তাব দেয় এবং এ বিষয়টি ভিকটিম অভিযুক্ত জামালের স্ত্রীকে জানায়। জামালের স্ত্রী জামালের কূ প্রস্তাবের কথা শুনেও কিছু না বলায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং জামাল ও তার স্ত্রীর অপমানে হ্যাপি আক্তার আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কিন্তু ঘটনার সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে ভিন্ন তথ্য। নিহতের মেয়ে অস্পি আক্তার ঘটনার পর পর সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছিল যে, ”আমার মায়ের মস্তিস্কে সমস্যা ছিল। আমার মায়ের সাথে কারো কোন ঝগড়া বিবাদ হয়নি। তিনি নিজে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন”। নিহতের ফুপু শ্বাশুড়ি সানোয়ারা জানান, আমার ভাই জামাল কোন চরিত্রহীন লোক না। সম্প্রতি আমার ভাতিজা মাহাবুব আমার ভাই জামালের জায়গায় জোর করে পাকা দেয়াল নির্মাণ করে। বিষয়টি উল্টো দিকে নিতে তার স্ত্রীর আত্মহত্যার প্রায় তিন মাস পর মাহাবুব উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে আমার ভাই জামাল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্ররোচনার মামলাটি দায়ের করেছে। একই বক্তব্য দেন অভিযুক্ত জামালের মেয়ে ঝিনুক আক্তার ও। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্টে ঘটনাটি আত্মহত্যা জনিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং নিহতের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট ছিল বলে উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আড়াইহাজার থানার এস আই সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের স্বামী মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। তদন্তে অভিযুক্তরা দোষী প্রমাণিত হলে সে অনুযায়ি আদালতে রিপোর্ট পেশ করা হবে।