দীর্ঘদিন পর আজ শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দড়িসোনাকান্দা এলাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯, ২০ ও ২১নং ওয়ার্ডের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে এলাকা সেজেছে নতুন সাজে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। সম্মেলনে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ত্যাগী-নিযার্তীত নেতৃত্বকেই চাইছেন। সম্মেলনের মাধ্যমে দুটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দীতা করছেন ত্যাগী নেতাসহ নতুন মুখ। এই সম্মেলনে সভাপতি ও সম্পাদক পদে নবীন-প্রবীণ মিলে প্রায় ডজনখানেক প্রার্থী হয়েছেন।
এরমধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯,২০ ও ২১নং ওয়ার্ডে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দীতায় নেমেছে ১৮জন প্রার্থী। এরা হচ্ছে মহানগর আ’লীগের ১৯নং ওয়ার্ড সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন আ’লীগ নেতা আলমগীর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর ফয়সাল মোহাম্মদ সাগর, আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিন জসু, আশরাফুল ইসলাম বাবু, রফিকুল ইসলাম রবি। সাধারন সম্পাদক পদে প্রাথর্ী হয়েছেন মুকুল রানা, আনোয়ার চৌধুরী, মানিক মাহমুদ। ২০নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন সোহেল করিম রিপন, একই পদের জন্য জহিরুল ইসলাম জহির মুন্সি, জাহাঙ্গীর হোসেন, শহিদ মৃধা, সাধারন সম্পাদক পদে ডা. শহিদুল্লাহ ও আসাদুজ্জামান খোকন। ২১নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন মো. ছালাউদ্দিন ও নাজমুল হাসান আরিফ। সাধারন সম্পাদক পদে মনিরুজ্জামান খোকন ও যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম রাজা। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন ছয় প্রার্থী।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ২০নং ওয়ার্ডস্থ দড়িসোনাকান্দা সড়কে ১০ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৩টায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আ’লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মহানগর আ’লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড.খোকন সাহা ।
এছাড়াও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মহানগর আ’লীগের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আউয়ুব আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে মহানগর আ’লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
তথ্যসুত্রে জানা যায়, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে যেন ঘুম নেই। যার যার অবস্থান থেকে প্রত্যাশিত পদ পদবী পেতে সুপারিশ,তদবীরের যেন কমতি নেই। সাধারন কমর্ীদের মাঝে চলছে আনন্দ ও উৎসাহ উদ্দিপনার জোয়ার। কার হাতে যাচ্ছে ৩টি ওয়ার্ডের তালা-চাবি। তবে ৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬জন নেতার নাম খুব জোরে সোরেই গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে।
এদের মধ্যে আলোচনায় আছেন ১৯নং ওয়ার্ডে সভাপতি পদপ্রত্যাশী আ’লীগ নেতা সাবেক ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল মোহাম্মদ সাগর। ওনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৯নং ওয়ার্ডে দুই বারের কাউন্সিলর ছিলেন। বন্দর থানা আ’লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তার পিতা ১৯৮৪ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থাকাকলীন কমিশনার ছিলেন।
সে ছোটকাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। দীর্ঘদিন থানা আ’লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক থেকে দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। আ’লীগ পরিবারের সন্তান হয়ে তিনি দেশ সেবার ব্রত নিয়ে আ’লীগের প্রতিটি কার্যক্রমে অনবদ্ধ ভ্থূমিকা রাখেন বলে জানা যায়। অপরদিকে ১৯নং ওয়ার্ডে আলোচনায় রয়েছেন আলমগীর হোসেন এমএসসি। রাজনৈতিক ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আ’লীগের পতাকাতলে রয়েছেন। আন্দোলন সংগ্রামে তারও ভূমিকা বিরল।
২০নং ওয়ার্ডে সভাপতি পদে সোহেল করিম রিপন তিনি আ’লীগ পরিবারের সন্তান। তার পিতা মরহুম সাদেক আলী নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা কালীন কমিশনার ছিলেন। তার চাচা মফিজুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ আ’লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আ’লীগের প্রয়াত সাধারন সম্পাদক। ঘনিষ্ট সুত্রমতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মফিজ চাচা বলে ডাকতেন। কেননা তিনি বঙ্গবন্ধু পাশে থেকে রাজনীতি করেছেন।
এছাড়াও সোহেল করিম রিপন মাহমুদ নগর ঈদগা ও কবরস্থান কমিটির সভাপতি। মাহমুদ নগর জামিয়া হাজী শাহজাদী বাইতুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার সেক্রেটারী ছিলেন। এছাড়াও ২০নং বেপারীপাড়া সপ্রাবি’র সাবেক সভাপতি ও মাহমুদ নগর পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন।
অপরদিকে সাধারন সম্পাদক পদে আসাদুজ্জামান খোকন মহানগর আ’লীগ সাধারন সম্পাদক এ্যাড.খোকন সাহার আস্তাভাজন লোক। বিভিন্ন সময়ে দলীয় কর্মসূচিতে তার মিছিলটিতে প্রচুর কর্মী সমর্থকদের সমাগম ঘটে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে তিনি দীর্ঘদিন ধওে খোকন সাহার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই এবার তিনি আলোচনায় রয়েছেন। ২১নং ওয়ার্ডে সভাপতি পদে সালাউদ্দিন ও নাজমুল হাসান আরিফ এ দুজনের নাম শুনা যাচ্ছে। এ দুজন রাজনৈতিক নেতা আশির দশক থেকে আ’লীগের পতাকাতলে থেকে রাজলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। বিএনপি জামাত সরকার আমলে অমানসিক নিযার্তন,হামলা মামলা খেয়েছেন। জেল খেটেছেন দুজনই। এরা ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতা। তাই এরা আলোচনায় রয়েছে।
সম্মেলন সম্পর্কে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সিদ্দিক জানান, সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সম্মেলনকে সামনে রেখে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে কঠোর নজরদারি রয়েছে পুলিশ প্রশাসনের।