শফিকুল ইসলাম শফিকঃ আদি যুগে একটি প্রবাদ ছিল চোরের বাড়িতে নাকি দালান হয় না কিন্তু যুগের পরিবর্তনে সেই প্রবাদ মিথ্যায় পরিণত হয়েছে এখন চোরেরাই স্বাবলম্বী। কাগজে-কলমে বা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনে সরকারি সম্পদ চুরি বা আত্মসাৎ করে অনেকেই হয়ে গেছে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ, শুধু দালান নয় রীতিমতো হাজার কোটি টাকার মালিক।
এমন এক ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি মাদ্রাসা রোড হাজেরা মার্কেট এলাকায় তিনি হলেন সোনালী কয়েল কারখানার মালিক হারুন ওরপে গ্যাস চোর হারুন।
অভাবের তাড়নায় ২০০৬ সালে জীবিকা অর্জনের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় আসেন হারুন । কাজের সুবাদে সম্পর্ক হয় অনেকের সাথেই সময়ের পরিবর্তনে ঐ এলাকায় একটি পরিচিত মুখ হিসেবে স্বীকৃতি পান হারুন । স্থানীয় লোকদের সার্বিক সহযোগিতায় সোনালী মশার কয়েল নামে একটি কারখানা দিয়ে শুরু করেন কয়েলের ব্যবসা। তারপর থেকেই আর পিছনে তাকাতে হয়নি তার ।
মশার কয়েল তৈরিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় গ্যাস কারণ গ্যাস না থাকলে মশার কোয়েল শুকানো যায় না। আর এই গ্যাসেই হয়ে গেল হারুনের জীবনের আলাদিনের চেরাগ, কারণ কয়েল কারখানায়তো অবৈধ গ্যাস সংযোগ,
২০০৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি সম্পদ গ্যাসের অবৈধ লাইন ব্যবহার করে আসছে সোনালী মশার কোয়েলের মালিক হারুন। ইচ্ছাকৃতভাবে গ্যাস লাইন বৈধ করেনি তিনি কারণ বৈধ লাইন হইলে মাসে ৫-৬ লক্ষ টাকা গ্যাস বিল দিতে হবে। আর সেই টাকা যদি না দিয়ে নিজের পকেটে ঢুকাতে পারে তাহলে তাকে আর ঠেকায় কে। এমনটাই চিন্তা করে সোনালী মশার কোয়েলের মালিক হারুন,তাই বৈধ লাইন না নিয়ে অবৈধ লাইন দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন – মাসের পর মাস – বছরের পর – বছর। কিছুদিন যেতে না যেতেই একটি থেকে দুইটি কারখানা গড়ে তুলেছে সোনালী কয়েল কারখানার মালিক হারুন।
সরকারি সম্পদ গ্যাস চুরি করে কত টাকার মালিক হয়েছে জানা নাই কিন্তু প্রতিমাসে যদি দুইটি কয়েল কারখানায় ১০ লক্ষ টাকা গ্যাস বিল আসে তাহলে এক বছরে – এক কোটি ২০ লক্ষ টাকা হয়। তাহলে ১৫ বছরে ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। সোনালী মশার কয়েল কারখানার মালিক হারুনের বিষয়ে পাশে থাকা আরো বিভিন্ন কয়েল কারখানার মালিকদের সাথে কথা বলে জানাজায় তারা বলেন হারুন মশার কয়েলের জগতে আমাদের সিনিয়র। সে সোনালী মশার কয়েল ছাড়াও আরো নামে বেনামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কয়েল তৈরি করে।
সোনালী মশার কয়েলের মালিক হারুনের কত টাকা আছে সে নিজেও জানেনা নামে বেনামে রয়েছে অনেক সম্পদ মিজমিজি পশ্চিমপাড়া পুকুর পাড়ে সোনালীর নামে সাত কাঠা জায়গার উপরে রয়েছে একটি দশ তলা ভবন। সেই ভবনেও রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ তিন ইউনিটের বাড়িতে রয়েছে ৩০টির মত চুলা যার কোন বৈধ কাগজপত্র নেই ঐ বাড়ির ভাড়াটিয়া দের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা বলেন প্রতিমাসে চুলা প্রতি ১০৮০ হাজার আসি টাকা করে গ্যাস বিল দেই মাস শেষ হলেই বাড়িওয়ালা আমাদের কাছ থেকে গ্যাস বিল নিয়ে নেয় বৈধ অবৈধ আমরা জানিনা।
এ বিষয় তিতাসের উদ্যতন কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তারা বলেন আমরা হারুনের কারখানায় একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করেছি এবং তার নামে মামলাও দিয়েছি কিন্তু তার পরও সে গ্যাস চুরি বন্ধ করে না। এই বিষয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় তারা বলেন হারুন দুইটি মশার কয়েল কারখানার আলিশান বাড়ি সহ কোটি কোটি টাকার মালিক কিভাবে হলো তা আপনারা দেখেন দুদকের মাধ্যমে তার টাকার হিসাব চান সে এই এলাকায় লুঙ্গি পড়ে এসেছে কিন্তু রাতারাতি গ্যাস চুরি করে কোটিপতি হয়েছে। এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গ্যাস চোর হারুনের সহকারি আবুল হোসেন সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ করে তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান করেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়ার ছোট ভাই আবুবক্কর সিদ্দিক ও সাংবাদিকদের সাতে খারাপ আচরণ করে এবং অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে তথ্য সংগ্রহের কাজে বাধা প্রদান করেন। একজন চোরের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে বিরূপ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।
সাংবাদিকদের সাথে বিরূপ আচরণের বিষয়ে মোবাইল ফোনে আবুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন কেউ সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে ব্যবহার করলে তার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারি সংস্থা রয়েছে সাংবাদিকরা আসবে কেন। হারুন অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন হ্যাঁ করে তবে এই জন্য তিতাস কর্তৃপক্ষ রয়েছে তারা ব্যবস্থা নিবেন এখানে সাংবাদিকরা আসবে কেন।