রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ রবিবার | ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক : কতপ্রাণ গেলে টনক নড়বে হাইওয়ে পুলিশের ?

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :

সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০২২ | ৪:৫৭ অপরাহ্ণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক : কতপ্রাণ গেলে টনক নড়বে হাইওয়ে পুলিশের ?

সিদ্ধিরগঞ্জে শৃঙ্খলা নেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। মাসোহারা দিয়ে উল্টো পথে দিব্বি চলাচল করছে নিষিদ্ধ ব্যাটারি চালিত থ্রি-হুইলার। গত রোববার সকালে উল্টো পথে চলা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হলেও টনক নড়ছেনা হাইওয়ে পুলিশের।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল মোড় ও শিমরাইল মোড় থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত কয়েক শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল করছে উল্টো পথে। মহাসড়কে ব্যাটারি চালিত থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও হাইওয়ে পুলিশকে গাড়ি প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে মাসোহারা দিয়ে নির্বিগ্নে চলছে এসব পরিবহন।

সরেজমিনে মহাসড়কে গিয়ে দেখা গেছে, শিমরাইল মোড় নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের পশ্চিম পাশের কোণা থেকে মহাসড়কে উল্টোভাবে চলাচল করছে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা। এখান থেকে দৈনিক দেড়শতাধিক গাড়ি যাত্রী নিয়ে উল্টোভাবে কাঁচপুর যায় বলে আশপাশের কয়েকজন দোকানদার জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইজিবাইক চালক বলেন, উল্টোভাবে যাওয়ার জন্য হাইওয়ে পুলিশকে মাসে তিন হাজার টাকা মাসোহারা দেই। এছাড়া সাইনবোর্ড থেকে মৌচাক বাসস্ট্যান্ড ও মৌচাক থেকে শিমরাইল মোড় আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেট পর্যন্ত ব্যাটারি চালিতসহ বিভিন্ন পরিবহন উল্টোভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে।

শিমরাইল মোড়ের মানিক নামে একজন দোকানদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উল্টোপথে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা একটি ইজিবাইকের চালকসহ ৫ জনের মৃত্যু ও কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনার পরও নিরব হাইওয়ে পুলিশ। এতবড় ঘটনার পরও এসব নিষিদ্ধ ব্যাটারি চালিত গাড়ি চলছে উল্টোভাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, মহাসড়কে উল্টোপথে এসব ছোট পরিবহন চলাচলের কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছে যাত্রী ও গাড়ি চালকরাও। সানারপাড় থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত মহাসড়কে কোন ডিভাইডার বা ইউটার্ন না থাকায় সময় বাঁচাতে অনেক পরিবহন উল্টোভাবে চলে বলে জানান তিনি।

উল্টোভাবে চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে একাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একে সীমনা একেকজন নিয়ন্ত্রন করছে। এসব নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের সংসুত্র রয়েছে। তারা গাড়ি প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা চাঁদা নেয়। চাঁদার টাকার এক অংশ হাইওয়ে পুলিশ আরেক অংশ নিয়ন্ত্রকরা নেয়। মহাসড়কে গাড়ি চালালে হাইওয়ে পুলিশ কিছু বলবেনা বলে নিশ্চয়তা দেয় নিয়ন্ত্রকরা। তবে চালকরা নিয়ন্ত্রকদের নাম বলতে অনিহা প্রকাশ করেন।

জানতে চাইলে সাইনবোর্ড ও শিমরাইল মোড়ে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের টিআই একে এম সরফুদ্দিন উল্টোপথে ব্যাটারি চালিত বাহন চলাচলের সত্যতা স্বীকার করলেও মাসোহারা নেওয়ার কথা সঠিক নয় বলে দাবি করেন। তবে জনবল সংকটের কথা বললেও প্রতিনিয়ত ব্যাটারি চালিত বাহন আটক করে ডাম্পিং করা হচ্ছে। মহাসড়কে এসব গাড়ি চলাচল বন্ধে সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি নবীর হোসেন বলেন, উল্টেপথে চলার জন্য দুর্ঘটনার শিকার হয়ে কতগুলো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে তা খুবই মর্মান্তিক। রেকার ও ডাম্পিং করেই থ্রি-হুলাইর চালকদের নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা। যাত্রীদের সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন মহাসড়কে ব্যাটারি চালিত তিন চাকার বাহন বন্ধে কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন