বন্দরে শেখ জামাল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার সংবাদ সংগ্রহ করে ফেরার পথে অপহরণরকারীরা দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার বন্দর প্রতিনিধি সাংবাদিক নুরুজ্জামান মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
রোববার (১৭ জুলাই) বন্দর উপজেলার হালুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ অপহরণের চেষ্টায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দসহ চালক শফিককে (৪০) গ্রেফতার করেছে।
কামতাল তদন্তকেন্দ্র পুলিশ আহত সাংবাদিক নুরুজ্জামানকে উদ্ধার করে স্থানীয় মদনপুর আরকে হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে সেখানে তার অবস্থা অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে প্রেরণ করেছে।
কামতাল তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মাহবুব জানান, কামতালের কাইয়ূম, বাবু, শরীফ, জাকের, শাহজাহান সাহাজসহ ৭ থেকে ৮জনের একটি দল কমতাল হালুয়াপাড়া এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থীকে (১৫) কোচিং করে বাড়ি ফেরার পথে সকাল ১০টায় জোরপূর্বক গাড়ি তুলে অপহরণের চেষ্টা করে।
এসময় স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে ছাত্রী অপহরণকারীদের হাত থেকে রক্ষা পায় ছাত্রীরা । এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে কামতাল তদন্তকেন্দ্র পুলিশ ও সাংবাদিক নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ তাৎক্ষনিক অপহরণে ব্যবহৃত গাড়ি জব্দসহ চালককে আটক করে।
ওই সময় সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। পরে সাংবাদিক নুরুজ্জামান সংবাদ সংগ্রহ করে তার নিজ মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণকারী সন্ত্রাসীরা তাকে রাস্তায় একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পুলিশ মুমুর্ষ অবস্থায় সাংবাদিক নুরুজ্জামানকে উদ্ধার করে প্রথমে মদনপুর আরকে হাসপতালে পাঠায়। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
সাংবাদিক নুরুজ্জামানের স্ত্রী রুমা বেগম জানান, নুরুজ্জামানের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে ও ইট দিয়ে আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
বন্দর থানার ওসি দিপক চন্দ্র সাহা বলেন, কোন অবস্থাতেই সন্ত্রাসীদের ছাড় দেয়া হবে না। পুলিশ ইতোমধ্যে মাঠে নেমে গেছে অল্প সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার হবে। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে সাংবাদিক নুরুজ্জামানকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত মামলা রেকর্ড করা হবে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।