প্রায় এক কোটি টাকার শিমরাইল ফুটওভার ব্রিজের
সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। টেন্ডার দাখিলের শেষ সময় অতিবাহিত হওয়ার আগেই নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের
অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা। টেন্ডার দাখিল ও খোলার সময় এখনো বাকী রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, টেন্ডারদরপত্র নং ৮৩, টেন্ডারের দাখিলের শেষ সময় ১৪ মে, এবং টেন্ডার খোলার তারিখ ১৫’মে।
অথচ গত ৪’মে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা ঠিকাদারকে কাজ কারার জন্য বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং সে মোতাবেক ঠিকাদার ফুট ওভারব্রিজের জন্য মাটি খুঁড়ে বেইজ নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ করেছেন। দিন রাত সমান তালে চলছে নির্মাণ কাজ। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ই-টেন্ডারের মাধ্যমে উম্মুক্ত পদ্ধতিতে এই টেন্ডার প্রক্রিয়া করার বিজ্ঞপ্তি সড়ক বিভাগের ওয়েবসাইডে চলমান রয়েছে।
নকশী এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকরী মোঃ খায়রুল আনাম এই ফুটওভারব্রিজের সম্প্রসারনের কাজ করলেও তার কোন সাইনবোর্ড ঝুলানো নেই। নির্মাণ প্রকল্প এলাকা চারদিকে ঘেরাও করে বেড়া দেওয়া হয়েছে। মালামালও এনে রাখা হচ্ছে।
ঠিখাদারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ঠিকাদার জানায়,গত ৫’মে থেকে তারা মাটি কাটা বেইজকরা রড বাধাই, লোহার খাচা এবং অন্যান্য কাজ করছেন।
কাজে ব্যবহৃত মালামালের সঠিক মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, খোজ নিয়ে জানাগেছে, গবেষনাগারে মালামাল পরীক্ষা নিরীক্ষা বিহীন এসকল মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে। কার্যাদেশ পাওয়ার দিন থেকে এই কাজটি শেষ করার মেয়াদ ৩০’দিন।এ দিকে টেন্ডার দাখিল এবং খোলার ১১ দিন আগেই কিভাবে ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারে তা নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া ও কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারকে কাজের পরিকল্পনা দাখিল করতে হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজে যে সকল মালামাল ব্যবহার করা হবে তার প্রতিটি গবেষনাগারে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তার পর সেগুলো দিয়ে কাজ করতে হয়। কার্যাদেশের সূত্র ছাড়া সড়ক ও জনপথের গবেষনাগার কিংবা অন্য কোন অনুমোদিত গবেষনাগারে মালামাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো যায়না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, ইজিপি টেন্ডার নিয়ন্ত্রনের সব ক্ষমতা এখন প্রাক্কলন অনুমোদনকারী কর্মকর্তার হাতে। তিনি চাইলে সব কিছুই করতে পারেন। প্রাক্কলনে কাজের বিশেষ দফা যুক্ত করে তার একটি পর্যালোচনা দর নির্ধারন করে পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে দিলে আর অন্য কোন ঠিকাদার এতে অংশ গ্রহন করলেও বাছাইয়ে টিকবেনা। এভাবেই এখন এসব হয়।
সওজ’র ওয়েবসাইটের তথ্যে দেখাযায়, নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৮৩’র মাধ্যমে শিমরাইল ফুটওভারব্রীজ (প্রথম) মেরামত, নবরুপায়ন ও বর্ধিতকরনের কাজটির টেন্ডার আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে গত ১’মে।
টেন্ডারবিক্রির শেষ তারিখ ১৪’মে এবং টেন্ডার জমা ও খোলার শেষ তারিখ ১৫’মে। তার পর অংশগ্রহনকারী দরদাতাদের টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি (সওজ এবং অন্য আরো একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী নিয়ে গঠিত ৩’সদস্যের কমিটি) যাচাই-বাছাই করে যোগ্য দরদাতা পেলে তাকে নিয়োগে সুপারিশ করবেন।
দ্রুততম সময়ে ঠিকাদার নির্বাচিত করলেও আরো বেশ কিছু দিন সময় লাগবে কাজের কার্যাদেশ দিতে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্রীজটি বাড়ানো হচ্ছে। গত ৪ নভেম্বর ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দিয়েছি। নকশী এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে।
দরপত্র দাখিল ও খোলার সময় বাকি থাকতে কিভাবে ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হল জানতে চাইলে তিনি বলেন,এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাঁচপুর হাইয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (টিআই) ইব্রাহিম জানায়, এরআগে আমরা কয়েকজন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছি এবং কয়েটি মামলা দিয়েছি। অন্যান্য চাঁদাবাজদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।