নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্য দিবালোকে অতর্কিত কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই ব্যবসায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের রাধানগর বাজারে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কালাপাহাড়িয়া গ্রামের সালামত উল্লার দুই ছেলে সুজন ও সাজ্জাদ, শুক্কুরের ছেলে বাবু গাজী, খলিলের ছেলে শাহজালাল এবং কামালের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাধানগর বাজারে ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকলে তার হাত, পা ও মাথায় গভীর ও গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এলাকাবাসী ও বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই হামলার পেছনে রয়েছে চাঁদাবাজির পুরোনো ক্ষোভ। কিছুদিন আগে অভিযুক্ত বাবু গাজী স্থানীয় রেজেক মোল্লা নামের এক ব্যক্তির কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই চাঁদার টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েই বাবু গাজী ও তার সহযোগীরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের ওপর পরিকল্পিতভাবে এই বর্বরোচিত হামলা চালায়।
হামলার পর রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা আব্দুর রাজ্জাককে উদ্ধার করে দ্রুত মদনপুর আল-বারাকা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার করেন। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ব্যস্ত বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় রাধানগর বাজার ও আশপাশের সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত ‘বাবু গাজী বাহিনী’র সকল সদস্যকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবজেল হোসেন জানান,ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।