সিদ্ধিরগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বিভাগীয় শ্রম দপ্তর নারায়ণগঞ্জের পরিচালক আফিফা বেগম ও সহকারী পরিচালক ইয়াছমিন আক্তারের বিরুদ্ধে করা অনিয়ন দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত করছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্নসচিব মোহাম্মদ কুদ্দুছ আলী সরকার। তিনি বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়ায় অবস্তিত শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে হাজির হয়ে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত দুজনসহ দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে পৃথক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের মিতালি মার্কেট দোকানদার সমিতির (গভ: রেজি নং- ১৬৯৮) নির্বাচিত একটি কার্যকরী কমিটি বহাল থাকা সত্তে¡ও শ্রম আইন ও নীতিমালা অমান্য করে অর্থের বিনিময়ে গত বছরের ১১ অক্টোবর ২৯ সদস্যের আরেকটি কার্যকরী কমিটির অনুমোদন দেন বিভাগীয় শ্রম দপ্তর নারায়ণগঞ্জের পরিচালক ও রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন আফিফা বেগম এবং সহকারী পরিচালক ইয়াছমিন আক্তার। হাইকোর্টের আদেশ ও শ্রম আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও মার্কেটে বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত সৃষ্টি করতে আরেকটি কমিটির অনুমোদন দেওয়ায় আগের কমিটির কোষধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম মঞ্জু তাদের বিরুদ্ধে একই বছরের ২১ ডিসেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগে মিতালী মার্কেট ছাড়াও বিগত সময়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের ১০ শতাংশ জমি নিয়ে করা মামলা পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে সহাকারী পরিচালক ইয়াছমিন আক্তার প্রতিপক্ষ আঙ্গুরা বেগমের কাছ থেকে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে দীর্ষ সময় আদালতে হাজির ও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন না করায় আদালত একদরফাভাবে অঙ্গুরা বেগমের পক্ষে রায় দেন। এতে সরকারি ১০ শতাংশ জমি হাতছাড়া হয়ে যায়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে ইয়াছমিন আক্তারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও পরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার বিষয়টিও অভিযোগে উত্থাপন করা হয়। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন শিল্প কারখানা ও দুশতাধিক ট্রেড ইউনিয়ন কমিটির লোকজনকে হয়রানী করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয় অভিযোগে তুলে ধরা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যুগ্নসচিব মোহাম্মদ কুদ্দুছ আলী সরকারকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করেন। দায়িত্ব পেয়ে কুদ্দুছ আলী সরকার অভিযুক্ত দুকর্মকর্তাকে ৮ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০ টায় তাদের নিজ কার্যলয়ে উপস্থিত থাকার জন্য গত ৫ জানুয়ারি চিঠি দেন। মোহাম্মদ কুদ্দুছ আলী সরকার যথাসময়ে নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বেলা ১১ টা থেকে প্রাথমে অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও পরে অভিযুক্তদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন। পরে কথা বলেন অভিযোগকারী মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে।
এসময় শ্রম দপ্তর কার্যালয়ে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা তদন্তকারী কর্মকর্তা কুদ্দুছ আলী সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি অনিহা প্রকাশ করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পরিচালক আফিফা বেগম ও সহকারী পরিচালক ইয়াছমিন আক্তারের অনিয়ন দুর্নীতির কথা তদন্তকারী কর্মকতার কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগকারী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সহকারী পরিচালক ইয়াছমিন আক্তার দীর্ঘ ২১ বছর ধরে একই কার্যালয়ে রয়েছেন। যা সরকারি চাকরি নীতিমালা বহির্ভূত। দীর্ঘদিন একই অফিসে কাজ করায় তিনি সবকিছু জানেন। ফলে পরিচালক আফিফা বেগম তার সঙ্গে মিলে অনিয়ম দুর্নীতি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। আমি তথ্য প্রমাণসহ তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে তা উপস্থাপন করেছি। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার আগনে অভিযুক্তরা ফুলদিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সাদরে গ্রহণ করায় তদন্ত নিয়ে সন্দেহ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর নারায়ণগঞ্জের সহকারী পরিচালক ইয়াছমিন আক্তার বলেন, দাপ্তরিক নিয়মনীতি মেনেই কমিটির অনুমোদক দেওয়া হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে কমিটি দেওয়া হয়নি। তাছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আমার তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছি।
জানতে চাইলে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর নারায়ণগঞ্জের পরিচালক আফিফা বেগম তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।