সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড সাহেবপাড়া মিতালী মার্কেট ও আশপাশ এলাকার ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজদের আগ্রাসন কমছেনা। বহাল তবিয়তে রয়েছে এ চক্রের টর্চারসেল। সম্প্রতি সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় এ চক্রের অন্যতম সদস্য কৃষকদল নেতা শাহাদাত চৌধুরীকে পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়ার পর এলাকায় স্বস্তি নেমে আসলেও তার সহযোগীরা আরও বেপোরোয়া হয়ে উঠে।
এদিকে কারাবাসের পর শাহাদাত চৌধুরী জামিনে বের হয়ে আসলে মিতালী মার্কেটসহ আশপাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা ফের আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। এদিকে ভয়ঙ্কর ভূমিসদস্য ও চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যেরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফতুল্লার শান্তিধারা ইউনিট আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জামান, সাধারণ সম্পাদক পেট্রোবাংলার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সিরাজুল ইসলাম ওরফে কানা সিরাজ, কলার ফারুক ও কৃষকদল নেতা শাহাদাত চৌধুরী মিলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ভূমিদস্যুতা ও চাঁদাবাজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে।
ফতুল্লার শান্তিধারা,তুষার ধারা, গিরিধারা ও সিদ্ধিরগঞ্জের মিতালী মার্কেটসহ আশপাশ এলাকায় একাধিক টর্চারসেল গড়ে তুলে নিরীহ মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ বহু অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে এ চক্রের বিরুদ্ধে। এ চক্রের প্রত্যেক সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থআত্মসাত ও জমি দখলসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এসব মামলা গ্রেপ্তার হয়ে বিভিন্ন সময় তারা কারাভোগ করেছেন। গণঅভ্যুত্থানে দেশের পটপরিবর্তনের পরেও তাদের অপকর্ম থেকে থাকেনি।
সম্প্রতি গিরিধারা এলাকায় কৃষকদল নেতা (পদ স্থগিত করা) শাহাদাত চৌধুরীর বাড়ির পাশে গড়ে তুলা টর্চারসেলে ৩ জন সাংবাদিককে আটকে রেখে মারধার করার ঘটনায় একটি মামলা হয়। এ মামলায় শাহাদাত চৌধুরী গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার পর একে একে বেড়িয়ে আসে শাহাদাত চৌধুরী চক্রের অপকর্মের নানা ফিরিন্তি। ঢাকার গুলিস্তানের ফুটপাতের হকার কলার ফারুক এ চক্রের সদস্য হয়ে মাত্র ৫-৬ বছরে বিলাসবহুল একাধিক বাড়ির মালিক বনে গেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জের সাহেবপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরমান বলেন, সিরাজ ওরফে কানা সিরাজ পেট্রো বাংলায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন, তিনিও সাহেব পাড়া এলাকায় বিলাসবহুল দুটি বাড়ি, কক্সবাজার কলাতলী মোড়ে এপার্টমেন্ট, পূর্বাচলে প্লট, সাহেব পাড়া এপার্টমেন্ট, গুলিস্তানে দোকান, মেয়েকে অস্ট্রেলিয়াতে লেখা-পড়া করাচ্ছেন।
জামান অবৈধভাবে মালয়েশিয়া লোক পাঠাতো। শান্তিধারা ইউনিট আওয়ামীলীগের সভাপতি রাজ্জাক বেপারীর ঘনিষ্ট লোক হওয়ায় ভুয়া দলিল তৈরি করে নিরীহ মানুযের জমি দখল করে এ জামান হয়েছেন গাড়ি বাড়ির মালিক।
এছাড়াও জামান মানবপাচার, হুন্ডি, নারীপাচারসহ রোহিঙ্গা নারীদের অবৈধ ভাবে বাংলাদেশী পাসপোর্ট বানিয়ে মালেশিয়া, সৌদি আরব পাচারের সাথে ও জড়িত বলেন জানান আরমান। অথচ তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলাসহ, মানব পাচার মামলা, অর্থ আত্মাসাতের মামলা, চাঁদাবাজি মামলা, জাল দলিল সৃজনের মামলাও রয়েছে। তবু তিনি এলাকায় বীর দর্পে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের পটপরিবর্তনের পর কৃষকদল নেতা শাহাদাত চৌধুরী হয়ে উঠেন আওয়ামী লীগের জামান, কলার ফারুক ও কানা সিরাজগংদের পৃষ্ঠপোষক।
এ সময় স্থানীয়রা শাহাদাৎ এ চক্রদের রুখতে র্যাব-পুলিশ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।