নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে দিদার নামে এক কসাইয়ের বিরুদ্ধে অসুস্থ,রোগাক্রান্ত ও চোরাই গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত দিদার কসাই কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ইজারকান্দী গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে।
জনসাধারণের অভিযোগ রয়েছে দিদার কসাই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কোনো রকম পরীক্ষা ছাড়াই অসুস্থ ও চোরাই গরু লোক চক্ষুর অন্তরালে রাতের আঁধারে জবাই করে সকালে বস্তাভর্তি মাংস ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট বাজারে নিয়ে ফ্রেশ গরুর মাংস বলে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে আর্থিক ফায়দা লুটে নিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছে গ্রাহক অন্যদিকে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে স্থানীয়দের স্বাস্থ্য।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, দিদার কসাই দীর্ঘদিন যাবত কালাপাহাড়িয়া এলাকায় অসুস্থ হয়ে গরু মরে গেলে রাতের আঁধারে তা অল্প দামে গরুর মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করে সে মাংস বাজারে বিক্রি করেন। এছাড়াও গরু অসুস্থ হয়ে মরে যাওয়ার সময়ও তা জবাই করে তিনি বিক্রি করেন।
কসাইয়ের এলাকাটি মেঘনা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রলার যোগে চোরাই ও অসুস্থ গরু ক্রয় করে তিনি বিক্রি করেন বলেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কয়েকবার চোরাই ও অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রি করার কারণে এলাকায় কয়েকটি বৈঠকে তার জরিমানা হয়েছে। জানাযায়, ওই ইউনিয়নের খালিয়ারচর গ্রামের ওসমানের ছেলে মুসা ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করে দুই মাস যাবৎ লালন পালন করেছেন। গত ১৬ ই মে গরুটি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার সময় গরুর মালিক মুসা কসাই দিদার এর কাছে ওই গরুটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। দিদার কসাই রাত তিনটার দিকে গরুটি জবাই করে মাংস নিয়ে যায়। ওই এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে গরুটি মরে যাওয়ার পর কসাই অল্প দামে গরুটি কিনে নিয়ে মাংসগুলো বাজারে বিক্রি করেছেন।
এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানান, অসুস্থ এবং মৃত গরু মাংস খেয়ে মানুষ যেকোনো সময় অসুস্থ হয়ে মারাও যেতে পারে আমরা ওই কসাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করছি। অভিযুক্ত দিদার কসাইয়ের সাথে আলাপকালে অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রি করার কথাটি স্বীকার করলেও মৃত গরুর মাংস বিক্রি করেননা বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আড়াইহাজার থানা ওসি আহসান উল্লাহ জানান,এমন কোনো অভিযোগ কেউ করেনি। তবে কেউ অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ খবর নিয়ে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।