ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স জনগণের সাথে লুকোচুরি, অধিকাংশ সময় কোন না কোন সমস্যা লেগেই থাকে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স উপস্থিতি না থাকায় তাতে সুবিধা নিচ্ছে
বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স গুলি। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স গুলো সেবার নামে রোগী হয়রানি সহ অর্থ-বাণিজ্য দিশেহারা।
মানব সেবা একটি মহৎ সেবা।
এ সেবাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে হাসপাতাল কেন্দ্রীয় বহু অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস রয়েছে। যারা সরকারী অ্যাম্বুলেন্সের অনুপস্থিতিতে অর্থের বিনিময়ে রোগীদের হাসপাতালে আনা নেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। অনেক সামাজিক সংগঠন অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে বিনামুল্যেও অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে থাকেন। সেই মানব সেবাকে সামনে রেখে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে কয়েকজন ব্যক্তি।
যারা কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতে মুর্মুষ রোগীদের জরুরী ভিত্তিতে সোনারগাঁ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতিকালে এসব অ্যাম্বুলেন্সগুলো মানব সেবার নামে রোগীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
তারা জানান, বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্সের নামে অ্যাম্বুলেন্সের মালিকরা মুর্মুষ রোগীদের জিম্মি করে নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট তৈরী করে তাদের চাহিবা মতো অর্থ নিয়ে এ্যামুলেন্স সেবা চালু রেখেছেন। এতে অনেক গরীব ও অসহায় রোগী অ্যাম্বুলেন্স সেবা বঞ্চিত হয়ে অর্থের অভাবে বাধ্য হয়ে সিএনজি কিংবা অন্য যানবাহনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এতে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা না পেয়ে রাস্তায় মৃত্যুবরণ করার অভিযোগও রয়েছে।
সোনারগাঁয়ে হাসপাতালে আসা রোগীরা অভিযোগ করেন, সোনারগাঁয়ে সরকারী ভাবে যে অ্যাম্বুলেন্সটি রয়েছে সেটি কোন দিনও রোগী কাজে ব্যবহার হয়না। কখনো গাড়ী খারাপ থাকে আবার কখনো ড্রাইভারকে খুঁজে যাওয়া যায় না। তার ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করলে প্রায় প্রায় বন্ধ থাকে। আবার কখনো পাওয়া গেলে তিনি বলেন তিনি অন্য কাজে বাহিরে আছেন অন্য অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কেন তিনি এসব তালবাহানা করেন তা হাসপাতালের কেই বলতে পারেন না। এদিকে, সরকারী এ্যামুলেন্স না পেয়ে রোগীর স্বজনরা ছুটেন বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্সের দিকে। অনেক সময় কোন মুর্মুষ রোগী হাসপাতালে প্রবেশ করলে বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার ছুটের সে রোগীর পেছনে পেছনে।
সুত্র জানায়, সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিগত ৫ বছর আগে একটি বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ৭টি বেসরকারী অ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে। আগে রোগীরা ইচ্ছে মতো দামাদামি করে অ্যাম্বুুলেন্স সেবা নিতো এখন সেটা পারে না। এখন অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা নিজেদের স্বার্থের জন্য সিন্ডিকেট করে সিলিয়ার মোতাবেক অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে থাকেন। সেজন্য সিলিয়ার পাওয়া অ্যাম্বুলেন্স রোগীকে জিম্মি করে তার চাহিদা মোতাবেক টাকা নিয়ে রোগীকে সেবা প্রদান করেন নয়তো অ্যাম্বুুলেন্স সেবা বন্ধ। রোগী ইচ্ছা করলেও বাহির থেকে কিংবা অন্য অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হতে পারেন না। এতে বাধ্য হয়ে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের চাহিদা মাফিক টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে রোগীরা। সুত্র আরো জানায়, গত কয়েকদিন আগে গরীর বিষপান পান করা এক নারীকে তার স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে প্রেরণ করে। তখন স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স নিতে গেলে ড্রাইভার ৩ হাজার টাকা কমে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। অন্য অ্যাম্বুলেন্সের কাছে গেলে ড্রাইভার জানান আমাদের সিলিয়ার আছে, সিলিয়ার ছাড়া যাওয়া মালিকদের মানা। ফলে গরীর অসহায় রোগীর স্বজনরা বাধ্য হয়ে রোগীকে সিএনজি করে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পলাশ কুমার সাহা জানান, আমি যখন হাসপাতালে থাকি তখন কোন বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেইনা। আমি চলে আসলে তারা ভেতরে প্রবেশ করে। তিনি আরো জানান, এসব অ্যাম্বুলেন্সগুলো অতিরিক্ত ভাড়ায় চলে সে ব্যাপারে অনেকে আমাকে অভিযোগ করেছে। করোনা শুরু হওয়ার পর আমাদের অ্যাম্বুলেন্স সরকারী করোনার নমুনা আনা নেয়ার কাছে ব্যবহার হওয়ায় কারনে ও সরকারী অ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতার কারনে তারা এ সুযোগটি গ্রহন করছে। যা কোন মানুষের জন্য কাম্য নয়। সেবা তো সেবাই, সেবার নামে যারা রোগীদের জিম্মি করে টাকা আদায় করে তারা আর যাই হোক মানুষ হতে পারে না। যারা এরকম করে এমনও হতে পারে তাদের টাকা থাকবে কিন্তু চিকিৎসা করার মতো সময় থাকবেনা। যা করোনা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে।
সূত্র,নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকম।